সিনেমাশূন্য পরীমনি: ব্যক্তিজীবন আলোচনায় ভরপুর

ঢালিউডের আলোচিত ও সমালোচিত নায়িকা পরীমনি এই মুহূর্তে বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম চর্চিত নাম। তবে বর্তমানে তার খবরের শিরোনামে থাকার কারণ মূলত সিনেমার না হলেও, ব্যক্তিজীবন ও সামাজিক কর্মকাণ্ড। নতুন কোনো সিনেমার মুক্তি না পাওয়ায় এবং পুরনো প্রকল্পের শুটিং শুরু না হওয়ার কারণে ভক্ত ও গণমাধ্যমের নজর এখন তার ব্যক্তিগত জীবন ও সামাজিক মাধ্যমে কার্যক্রমের দিকে বেশি গিয়েছে।

পরীমনির সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ছিল ২০২৩ সালে, যা দর্শক বা ব্যবসার দিক থেকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়নি। ‘ডোডোর গল্প’ নামের একটি সিনেমার শুটিং শেষ হলেও মুক্তির দিনক্ষণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। বছরের শুরুতে ঘোষণা করা ‘গোলাপ’ সিনেমাটিও এখনও শুটিং পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এ ছাড়া ২০২০ সালে কয়েক দিনের শুটিং শেষে থেমে যাওয়া ‘প্রীতিলতা’ ছবির কাজ আবার শুরু হতে যাচ্ছে। এসব প্রকল্পের স্থির অবস্থা দর্শক ও মিডিয়ার আগ্রহের ক্ষেত্রে এক ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি করেছে।

শ্রেণিভুক্ত চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরীমনি চলচ্চিত্রে ধারাবাহিকভাবে মনোযোগ না দেওয়ায় তার কাজের প্রতি দর্শকের আগ্রহ কমেছে। তার সর্বাধিক ফেসবুক অনুসারী থাকা সত্ত্বেও নতুন ছবি ব্লকবাস্টার হয়নি। ঢালিউডে চলচ্চিত্র–অঙ্গনে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করতে হলে নিয়মিত সিনেমা এবং চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকের সঙ্গে সংযোগ থাকা জরুরি।

এই কারণে পরীমনি নতুন কোনো সিনেমা মুক্তি না পেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিনোদন সংবাদে তিনি প্রায়শই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। পরীমনির ব্যক্তিজীবন চলচ্চিত্রের চেয়ে বেশি আলোচনা–সমালোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রেম, সম্পর্ক, পারিবারিক বিষয় বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত—এসব দিকই ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ভক্ত ও সমালোচকের কৌতূহল জন্ম দিয়েছে। তার নানা সম্পর্ক, বিশেষ করে ২০২৫ সালের শুরুতে তরুণ গায়ক শেখ সাদীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং মামলার কারণে পরীমনি মিডিয়ার শিরোনামে ছিলেন। এসব সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদি না হলেও পরবর্তীতে তিনি নতুন সম্পর্কেও জড়িয়েছেন।

পরীমনি শুধু চলচ্চিত্রে নয়, ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও সক্রিয়। তিনি অনলাইনে ‘বডি’ নামে মাতৃত্বকালীন পোশাকের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি ব্যবসা সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেন, যা ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। এই ধরনের সামাজিক উপস্থিতি তাকে ট্রেন্ডিং রাখলেও চলচ্চিত্রাঙ্গনের ধারাবাহিক প্রভাব সীমিত।

পরীমনি প্রায়ই অপ্রত্যাশিত সময়ে—রাতদুপুরে কিংবা ভোরে—বিভিন্ন স্থানে হইহুল্লোড় করতে দেখা যায়। এসব স্থিরচিত্র বা ভিডিও দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই আচরণ তার জনজীবনকে নাটকীয় করে তোলে, কিন্তু পেশাগত ধারাবাহিকতার ক্ষেত্রে তা ক্ষতিকর। তিনি পর্দায় অত্যন্ত গ্ল্যামারাস এবং দর্শকের কাছে আকর্ষণীয়, তবে সিনেমার প্রতি উদাসীনতা তার প্রভাবকে সীমিত রেখেছে।
পরীমনি ২০১৩ সালে ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ ছবির মাধ্যমে ঢালিউডে ক্যারিয়ার শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি ঢালিউডের প্রধান নায়িকা হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। তবে ১০ বছরের ক্যারিয়ারে অভিনীত ছবির সংখ্যা কম হওয়ায় ধারাবাহিক সাফল্য সীমিত। উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে ‘স্বপ্নজাল’, ‘বিশ্বসুন্দরী’ ও ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ উল্লেখযোগ্য।

নাটকীয় ব্যক্তিজীবন ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের কারণে পরীমনি চলচ্চিত্র ছাড়াও আলোচনায় থাকেন। তারকা জীবনযাপন, মতামত ও উপস্থিতি মানুষের কৌতূহল জাগায়। ফলে পরীমনি নতুন সিনেমা না থাকলেও ভক্ত এবং গণমাধ্যমের নজর তার প্রতি স্থির থাকে। তার সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতি—ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম—তাকে নতুন সিনেমা ছাড়া ট্রেন্ডিং রাখতে সাহায্য করে।

ঢালিউডে পরীমনি একজন গ্ল্যামারাস ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নায়িকা। তবে চলচ্চিত্রাঙ্গনে ধারাবাহিক প্রভাব বাড়াতে হলে সিনেমার প্রতি মনোযোগ বাড়ানো জরুরি। সিনেমার শুটিং শুরু না হওয়া এবং মুক্তি পায়নি এমন প্রকল্পের কারণে বর্তমানে চলচ্চিত্রের চেয়ে ব্যক্তিজীবন ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বেশি আলোচনায় রয়েছে।
পরীমনির ক্যারিয়ার ও জনজীবন যে কতটা সমান্তরালভাবে চলতে পারে, তা তার চলচ্চিত্র ও সামাজিক মাধ্যমে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়।

চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ধারাবাহিকভাবে সিনেমায় মনোযোগী হলে পরীমনি পুনরায় ঢালিউডে নিজের প্রভাবকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। এই দশকের অভিজ্ঞতা, সামাজিক মিডিয়ার উপস্থিতি এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগ মিলিয়ে পরীমনি শুধু একজন অভিনেত্রী নয়, দেশের অন্যতম পরিচিত এবং প্রভাবশালী তারকা হিসেবে নিজেকে ধরে রেখেছেন। তবে তার চলচ্চিত্রাঙ্গনের সাফল্য পুনরায় নিশ্চিত করতে হলে শুটিং, মুক্তি ও নতুন চরিত্রের দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে।

-বিথী রানী মণ্ডল