জবিতে নারী প্রার্থীদের সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ জকসু সদস্য শান্তার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের নারী প্রার্থীদের লক্ষ্য করে অনলাইনে সাইবার বুলিং ও ‘স্লাটশেমিং’-এর মতো নোংরা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেত্রী ও জকসু সদস্য শান্তা আক্তার। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শান্তা আক্তার তার পোস্টে উল্লেখ করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হওয়া একটি ইতিবাচক দিক। কিন্তু এই নির্বাচনী আবহে একদল মানুষ নারী প্রার্থীদের ট্যাগিং, সাইবার বুলিং এবং যৌন হেনস্তার মতো হীন মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে। তিনি বলেন, “অনলাইনে কিছু মানুষ নারী প্রার্থীদের টেগিং, সাইবার বুলিং, স্লাটশেমিং ও যৌন হেনস্তার মতো নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে।”
পুরুষ প্রার্থীদের প্রতি সম্মান দেখালেও নারী প্রার্থীদের বেলায় সমাজের একাংশের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন কেন, সেই প্রশ্ন তুলে শান্তা বলেন, “আপনারা রাকিব ভাইয়ের প্রতি যে সম্মান দেখাচ্ছেন, আমাদের বোনদের বেলা ভিন্ন চিত্র কেন? আপনারা সমালোচনা করুন, কিন্তু সেটা হোক গঠনমূলক। শুধু নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যখন বার বার চরিত্রহননের নোংরা প্রচেষ্টা দেখি, তখন আমার মন ভেঙে যায়।”
নিজের সহযোদ্ধা খাদিজাতুল কোবরাসহ সব নারী প্রার্থীর সম্মান রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ তাদের বোনদের অসম্মান করছে—এমনটি তিনি ভাবতে চান না। তিনি সবাইকে মনে করিয়ে দেন যে, তারা একে অপরের ভাই-বোন এবং এই সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া জরুরি।
শহিদ ওসমান বিন হাদীর ত্যাগের কথা স্মরণ করে শান্তা বলেন, “বাংলাদেশ ভুলে যেয়ো না শহিদ ওসমান বিন হাদী ভাই পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছেন। আমরা সবাই ‘হাদী’ তখনই হবো, যখন আপনাদের বোনরা আর আপনাদের দ্বারা আক্রান্ত হবে না।” তিনি প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে এই মানসিকতা পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
–লামিয়া আক্তার