ক্রীড়াঙ্গনে বহুমুখী প্রতিভার এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়িতা। হকি, কাবাডি এবং অ্যাথলেটিকসের পর এবার ক্রিকেটেও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানোর অপেক্ষায় এই বিস্ময় বালিকা। হকি, কাবাডি ও অ্যাথলেটিকসে নিজের জাত চেনানোর পর এবার প্রথমবার জাতীয় নারী ক্রিকেট দলে ডাক পেয়েছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঘোষিত নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ১৫ জনের দলে জায়গা করে নিয়েছেন এই পাওয়ার হিটার ওপেনার।
জয়িতার পরিচয় কেবল একজন ক্রিকেটার হিসেবে নয়। ২০২৩ সালের দ্বিতীয় যুব গেমসে একই দিনে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ডিসিপ্লিনে (হকি, কাবাডি ও শট পুট) সোনা জিতে দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। এর আগে হকির জাতীয় দলের হয়েও দুটি সিরিজ খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার। ক্রিকেটে অভিষেক হলে চারটি ভিন্ন খেলায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করার এক অনন্য রেকর্ড গড়বেন তিনি।
২০২৩ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন জয়িতা। তবে সম্প্রতি ঘরোয়া ক্রিকেটে তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং নির্বাচকদের নজর কেড়েছে। সর্বশেষ এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে ৭ ইনিংসে ১৩১.২৫ স্ট্রাইক রেটে ১৮৯ রান করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। এরপর ২০ জনের কন্ডিশনিং ক্যাম্প থেকে তার জায়গা নিশ্চিত হয় মূল দলে।
জাতীয় দলের নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ শিপন জয়িতার প্রতিভা সম্পর্কে বলেন, “জয়িতার মধ্যে দারুণ পাওয়ার রয়েছে। আমরা তাকে ওপেনিংয়ের জন্য বিবেচনা করেছি। মূলত পাওয়ার প্লেতে সে যদি দ্রুত রান তুলে ভালো শুরু এনে দিতে পারে, তবে দলের বড় সংগ্রহ পাওয়া সহজ হবে। তার মধ্যে সেই সক্ষমতা আছে বলেই আমাদের বিশ্বাস।”
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ভালো করতে পারলে মূল বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নও সত্যি হতে পারে জয়িতার। জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা রয়েছে বাছাইপর্বের বেশিরভাগ ম্যাচেই তাকে খেলানোর। মাঠের লড়াকু এই অ্যাথলেট এখন ঘাসের গালিচার হকি স্টিক কিংবা কাবাডির ম্যাট ছেড়ে ব্যাট-বলে বিশ্বজয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।
-এম. এইচ. মামুন










