জকসুতে তুলনামূলক সাফল্য পেয়েছে ছাত্রদল

ছবি- সংগৃহীত।

দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ছাত্র সংসদ নির্বাচন—ডাকসু, জাকসু, রাকসু ও চাকসুতে ধারাবাহিক ভরাডুবির পর অবশেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে তুলনামূলকভাবে ভালো ফল পেয়েছে ছাত্রদল। আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের জকসু নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জয়ের পরিসর ও মার্জিন উভয়ই বেড়েছে।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) মধ্যরাতে জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদকীয় পদ এবং একটি কার্যনির্বাহী সদস্য পদে জয় এসেছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি আবাসিক হল সংসদের মধ্যে একমাত্র জগন্নাথ হলের ভিপি (সহসভাপতি) পদেও জয়ী হয়েছেন ছাত্রদল মনোনীত প্রার্থী।

ফলাফলে দেখা যায়, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে তাকরিম মিয়া ৫ হাজার ৩৮৫ ভোট, পরিবহন সম্পাদক পদে মাহিদ হোসেন ৪ হাজার ২৩ ভোট এবং পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে মো. রিয়াসাল রাকিব ৪ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ সাদমান আমিন পেয়েছেন ৩ হাজার ৩০৭ ভোট।

এর আগে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ ভিপি, জিএস, এজিএসসহ ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয়ী হয়। সেখানে ছাত্রদল কোনো পদেই জয় পায়নি। একইভাবে জকসুর হল সংসদ নির্বাচনেও ছাত্রদলের অবস্থান ছিল দুর্বল। ১৮টি হল সংসদের ভিপি, জিএস ও এজিএস—এই ৫৪টি শীর্ষ পদের মধ্যে ৫৩টিতেই বিজয়ী হন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেবল জগন্নাথ হলের ভিপি পদে জয় পান ছাত্রদল মনোনীত প্রার্থী।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনেও ছাত্রদল সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়। ২৫টি পদের মধ্যে একটিতেও তারা জয়লাভ করতে পারেনি। ওই নির্বাচনে ২৫টির মধ্যে ২০টি পদে জয় পায় শিবির-সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট। বাকি চারটির মধ্যে দুটি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) এবং দুটি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনেও ছাত্রদলের ফল হতাশাজনক। ২৩টি পদের মধ্যে মাত্র একটি সম্পাদকীয় পদে জয় পান ছাত্রদলের প্রার্থী। ১৭টি হল সংসদের ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ শীর্ষ ৫১টি পদের কোনোটিতেই ছাত্রদলের প্রার্থীরা জয়ী হতে পারেননি। সিনেটের পাঁচটি ছাত্র প্রতিনিধি পদের একটিতেও তাদের কেউ নির্বাচিত হননি। তবে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের প্রার্থী নার্গিস খাতুন ক্রীড়া সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনেও সাংগঠনিক দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং দলীয় সমর্থনের অভাবের কারণে ভরাডুবি ঘটে ছাত্রদলের। ২৬টি পদের মধ্যে মাত্র একটি পদে জয়ী হন ছাত্রদল প্যানেলের প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান। তিনি এজিএস পদে পেয়েছেন ৭ হাজার ১৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রশিবির প্যানেলের সাজ্জাদ হোসেন পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৫ ভোট। এ ছাড়া সহ-খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে জয় পান স্বতন্ত্র প্রার্থী তামান্না মাহবুব।

সার্বিকভাবে বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর জকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের এই ফলাফল সংগঠনটির জন্য কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদিও সামগ্রিক চিত্র এখনো চ্যালেঞ্জিং।

-মালিহা নামলাহ