শতাধিক গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের পক্ষে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
অব্যাহতির আবেদন করবেন আসামিপক্ষ আজকের শুনানিতে জিয়াউল আহসানের পক্ষে অংশ নেবেন তার বোন ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাজনিন নাহার। তিনি মামলায় ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন না করার আবেদন জানাবেন। একই সঙ্গে জিয়াউল আহসানকে এই মামলা থেকে অব্যাহতির (ডিসচার্জ) আর্জি জানানো হবে বলে আসামিপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।
প্রসিকিউশনের তিনটি ভয়াবহ অভিযোগ এর আগে গত ৪ জানুয়ারি প্রসিকিউশন পক্ষ জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তাদের শুনানি শেষ করে। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করেছেন, যেখানে ১০৩ জনকে গুম ও খুনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে:
প্রথম অভিযোগ: ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুরের পুবাইলে জিয়াউল আহসানের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যার অভিযোগ।
দ্বিতীয় অভিযোগ: ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা ও বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল ও মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ।
তৃতীয় অভিযোগ: একই সময়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ আরও ৫০ জনকে প্রাণনাশের অভিযোগ।
মামলার প্রেক্ষাপট উল্লেখ্য, গত ১৭ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ আমলে নেন। এরপর ২৩ ডিসেম্বর তাকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। জিয়াউল আহসান সর্বশেষ ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের আগস্টে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।