জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ তৃতীয় দিনের মতো তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) রুহুল আমিনের জেরা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই কার্যক্রম চলছে।
আদালত কক্ষের চিত্র আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হলে পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা শুরু করেন। জেরার একপর্যায়ে আইনজীবী টিটো প্রশ্ন করেন, মামলার সাক্ষী এসআই তরিকুল ইসলাম ও এএসপি আল ইমরান হোসেনকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছিল কি না। তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, এটি সত্য নয়। প্রসিকিউশনের আপত্তিসহ এই প্রশ্নটি রেকর্ডভুক্ত করা হয়।
জেরা চলাকালীন আইনজীবী টিটো তাজহাট থানায় রুজুকৃত মূল মামলা পর্যালোচনা এবং চার্জশিট দাখিলের পর তদন্ত চলমান রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুললে প্রসিকিউশন পক্ষ তাতে তীব্র আপত্তি জানায়। আদালত পরবর্তীতে অপ্রাসঙ্গিক বিবেচনায় কিছু প্রশ্ন গ্রহণ করেননি।
ছয় আসামি ট্রাইব্যুনালে হাজির আজ সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগার থেকে ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন: ১. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম ২. এএসআই আমির হোসেন ৩. কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ৪. ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ৫. রাফিউল হাসান রাসেল ৬. আনোয়ার পারভেজ
পলাতক ২৪ আসামির বিচার এই মামলায় মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ২৪ জন এখনও পলাতক রয়েছেন। পলাতক এসব আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই করার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে চারজন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মামলার প্রেক্ষাপট গত বছরের ২৪ জুন তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর ৩০ জুন আদালত অভিযোগ আমলে নেন। এরপর ৬ আগস্ট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক (ফরমাল) অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল-২। ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। উল্লেখ্য, গত ৬ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে জেরা শুরু হয়, যা আজও অব্যাহত রয়েছে।