দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ প্রশাসনের সাবেক ১৪ শীর্ষ কর্মকর্তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।
নিষেধাজ্ঞা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, ড. আহমদ কায়কাউস, সাবেক সিএএজি ও সোনালী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, নজরুল ইসলাম, কামাল উদ্দীন আহমদ, আব্দুল জলিল, ড. জাফর আহমেদ খান, মোহাম্মদ শহিদুল হক, জুয়েনা আজিজ, মোফাজ্জেল হোসেন, কাজী শফিকুল আযম এবং আখতার হোসেন ভূঁইয়া।
আদালতে দেওয়া দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার আসামিরা সপরিবারে দেশত্যাগের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে গোপন সংবাদ রয়েছে। তারা বিদেশে পালিয়ে গেলে মামলার তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘায়িত বা স্থায়ীভাবে ব্যাহত হতে পারে। তদন্তের স্বার্থে তাদের দেশে থাকা এবং বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ ডিসেম্বর ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের নামে ৪০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তবে নিয়ম ভেঙে সেই জমি ক্ষতিগ্রস্তদের না দিয়ে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্য ৯৯ বছরের দীর্ঘমেয়াদি লিজে আবাসন নির্মাণে ব্যবহার করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, ভূমি অধিগ্রহণ আইন-২০১৭ এবং সেতু কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৬-এর ধারা লঙ্ঘন করে এই আবাসন নীতিমালা-২০১৮ অনুমোদন করা হয়েছে। কোনো সরকারি গেজেট ছাড়াই আইনবহির্ভূতভাবে এই নীতিমালা প্রণয়ন করে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে।
আদালত সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জানান, দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় আনা এসব গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালত আজ এই নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছেন।