আজ বিশ্ব যুদ্ধাহত এতিম শিশু দিবস: যুদ্ধের সবচেয়ে নীরব শিকারদের কথা স্মরণ

World Day of War Orphans (বিশ্ব যুদ্ধাহত এতিম শিশু দিবস)। প্রতি বছর ৬ জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হয় যুদ্ধের ফলে বাবা–মা হারানো এতিম শিশুদের দুর্দশা, অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে।

ফরাসিভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন SOS Enfants en Détresse–এর উদ্যোগে ২০০২ সাল থেকে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। যদিও এটি জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক দিবস নয়, তবু মানবিক সংগঠন ও শান্তিকামী মানুষের কাছে দিনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশুরা। বিশেষ করে যারা যুদ্ধে বাবা-মা হারায়, তারা— নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়ে, মানসিক ট্রমা ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বহন করে মানবপাচার, সহিংসতা ও শোষণের ঝুঁকিতে পড়ে।

জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফের (UNICEF) তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে বর্তমানে কয়েক কোটিরও বেশি শিশু সশস্ত্র সংঘাত ও যুদ্ধজনিত কারণে এতিম বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

সিরিয়া, ফিলিস্তিন, ইউক্রেন, ইয়েমেন, আফগানিস্তান, সুদানসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের চলমান সংঘাতে প্রতিনিয়ত নতুন করে এতিম হচ্ছে হাজার হাজার শিশু। অনেক ক্ষেত্রে এসব শিশুকে শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে, যেখানে পর্যাপ্ত শিক্ষা, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা নেই।

বাংলাদেশ নিজে বর্তমানে সরাসরি যুদ্ধে জড়িত না থাকলেও মুক্তিযুদ্ধ, রোহিঙ্গা সংকট এবং প্রতিবেশী অঞ্চলের যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশের সমাজ ও মানবিক চেতনায় যুদ্ধাহত শিশুদের প্রতি সহমর্মিতার শিক্ষা দিয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে হাজারো যুদ্ধাহত ও এতিম শিশুর মানবিক সংকট আজও বড় বাস্তবতা।

বিশ্ব যুদ্ধাহত এতিম শিশু দিবসে মানবাধিকার কর্মীরা যেসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন— যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদার, যুদ্ধাহত শিশুদের জন্য শিক্ষা ও মানসিক সহায়তা, শরণার্থী শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী শিশুদের যুদ্ধে ব্যবহার বন্ধ করা।

বিশ্ব যুদ্ধাহত এতিম শিশু দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যুদ্ধ কেবল ভূখণ্ড ধ্বংস করে না, এটি একটি প্রজন্মের শৈশবও কেড়ে নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধাহত এতিম শিশুদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত না করলে টেকসই শান্তি কখনোই সম্ভব নয়।

এই দিনে বিশ্ববাসীর অঙ্গীকার হোক শিশুদের জন্য যুদ্ধ নয়, শান্তি ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা।

মাহমুদ কাওসার, নারায়ণগঞ্জ