নীলফামারী প্রতিনিধি
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও গ্রেপ্তার এড়ানোর গুঞ্জনের মধ্যে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে কামারপুকুর বাজারে এক অনুষ্ঠানে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আবদুল গফুর সরকারের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলবদল করেন।
এই যোগদানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
কারা যোগ দিলেন?
বিএনপিতে যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী স্থানীয় নেতা। বিশেষ করে কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের যোগদানটি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। তিনি সম্প্রতি বিএনপি অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের একটি মামলায় জামিনে মুক্ত হয়েছেন।
এছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আবুল হাসেম সরকার, কামারপুকুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলতাফ হোসেন এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লাবু সরকারসহ ইউনিয়নের শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক এই যোগদান কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড়
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই এটিকে ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সমালোচকদের মতে, মামলা ও পুলিশের গ্রেপ্তার এড়াতেই এসব নেতাকর্মী রাতারাতি আদর্শ পরিবর্তন করেছেন। সাধারণ মানুষের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, আওয়ামী লীগের বিতর্কিত ও অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের দলে ভিড়িয়ে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক নৈতিকতাকে ক্ষুণ্ন করছে কি না।
নেতাদের বক্তব্য
যোগদান প্রসঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ করলেও বর্তমানে দলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নেই। দুর্নীতি আর কর্মীদের অবমূল্যায়নের কারণে আমি অতিষ্ঠ ছিলাম। তাই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছি।”
ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলতাফ হোসেন জানান, ২০১৭ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও স্থানীয় কর্মকাণ্ডে তিনি হতাশ ছিলেন। তার মতো আরও অনেক নেতাকর্মীর মধ্যেই অসন্তোষ ছিল, তাই তারা স্বেচ্ছায় ও সম্মিলিতভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ আবদুল গফur সরকার বলেন, “তারা বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই দলে এসেছেন। তাদের এই অংশগ্রহণ তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করবে।”
এই দলবদলকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগে সৈয়দপুরের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।










