যশোরে চরমপন্থি বিরোধে ব্যবসায়ীকে গুলি ও গলা কেটে হত্যা

যশোর প্রতিনিধি
যশোরের মণিরামপুরে দিনে-দুপুরে এক ব্যবসায়ীকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করার পর গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার কপালিয়া বাজারে নিহতের নিজের বরফকলের সামনেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহত ব্যবসায়ীর নাম রানা প্রতাপ বৈরাগী (৪৩)। তিনি পার্শ্ববর্তী কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক তুষার কান্তি বৈরাগীর ছেলে।

নেপথ্যে চরমপন্থি সংগঠনের কোন্দল
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগী নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি সংগঠন ‘পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি’র একজন আঞ্চলিক নেতা ছিলেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ আরেকটি চরমপন্থি সংগঠনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরেই এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ ও স্থানীয়দের বক্তব্য
মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি সভাপতি আকতার ফারুক মিন্টু জানান, “রানা প্রতাপের কপালিয়া বাজারে একটি বরফকল রয়েছে। আজ সন্ধ্যায় সেখানেই তাকে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।” তিনি আরও জানান, রানা প্রতাপ একসময় চরমপন্থি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বরফকলের ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন।

পুলিশের তৎপরতা
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে মণিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এমদাদুল হক এবং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রজিউল্লাহ খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

ওসি রজিউল্লাহ খান বলেন, “আমরা নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে ঠিক কী কারণে এবং কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান শুরু হয়েছে।”

তিন দিনের ব্যবধানে যশোরে দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ড
এই ঘটনার মাত্র তিন দিন আগে গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত আটটার দিকে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আলমগীর হোসেন (৫৫) নামে বিএনপির এক নেতা নিহত হন। আলমগীর শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার বাসিন্দা এবং বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি জমি বেচাকেনার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

স্বল্প সময়ের ব্যবধানে জেলায় পরপর দুটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।