চ্যাটজিপিটির নতুন ব্রাউজার ‘অ্যাটলাস’ কি গুগল ক্রোমের রাজত্বে হানা দিতে পারবে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) দৌড়ে এবার সরাসরি ওয়েব ব্রাউজারের বাজারে প্রবেশ করলো ওপেন-এআই। গুগল ক্রোমের মতো একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখা প্রতিদ্বন্দ্বীদের চ্যালেঞ্জ জানাতে গত সপ্তাহে উন্মোচন করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত নতুন ওয়েব ব্রাউজার ‘অ্যাটলাস’। চ্যাটজিপিটির এই স্রষ্টা প্রতিষ্ঠানটি এখন তাদের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারকারী এবং এআই প্রযুক্তিকে পুঁজি করে আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চায়।

অ্যাটলাসের মূল বৈশিষ্ট্য কী?
ওপেন-এআইয়ের লক্ষ্য হলো, ব্রাউজিংয়ের অভিজ্ঞতাকে প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে নিয়ে আসা। ওপেন-এআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের ভাষায়, অ্যাটলাসকে প্রচলিত অ্যাড্রেস বারের পরিবর্তে “চ্যাটজিপিটিকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে।”

এর প্রধান আকর্ষণগুলো হলো:

  • এআই সাইডবার: ব্যবহারকারীরা যেকোনো ওয়েবপেজে চ্যাটজিপিটির সাইডবার ব্যবহার করে বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ তৈরি, পণ্যের তুলনা বা তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবেন।

  • এজেন্ট মোড: অর্থের বিনিময়ে এই বিশেষ মোডটি ব্যবহার করলে চ্যাটজিপিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার হয়ে ওয়েবসাইট অনুসন্ধান, ভ্রমণ পরিকল্পনা, এমনকি অনলাইনে কেনাকাটার মতো জটিল কাজও সম্পন্ন করে দেবে। সম্প্রতি এক প্রদর্শনীতে অ্যাটলাস রান্নার রেসিপি খুঁজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ইন্সটাকার্ট’ থেকে প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনে দেখিয়েছে।

  • ব্রাউজার মেমোরি: এটি আপনার ব্রাউজিং ইতিহাস মনে রাখে এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য দিয়ে আপনাকে সহায়তা করে। তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে এই ফিচার বন্ধ রাখতে পারবেন।

গুগলকে কীভাবে চ্যালেঞ্জ জানাবে অ্যাটলাস?
বর্তমানে চ্যাটজিপিটির সাপ্তাহিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮০০ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। এই বিশাল ব্যবহারকারী গোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে ওপেন-এআই গুগলের সার্চ-নির্ভর বিজ্ঞাপন মডেলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। অ্যাটলাসে এআই-ভিত্তিক চ্যাট ফিচার যুক্ত করা মূলত বিজ্ঞাপন বিক্রি শুরুর একটি প্রাথমিক ধাপ। আর্থিক বিশ্লেষক গিল লুরিয়ার মতে, “ওপেন-এআই একবার বিজ্ঞাপন বিক্রি শুরু করলে, সেটি গুগলের সার্চ বিজ্ঞাপনের ৯০% বিশাল বাজারের একটি বড় অংশ দখল করে নিতে পারে।”

ঝুঁকি ও বিতর্ক
প্রযুক্তি বিশ্বে অ্যাটলাস নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হলেও এর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক এলেনা সিমপার্ল সতর্ক করে বলেন, “নতুন এই এআই ব্রাউজার নির্ভরযোগ্য এবং অনির্ভরযোগ্য সূত্রের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না, যা ভুল তথ্যের ঝুঁকি বাড়ায়।” তিনি আরও বলেন, “আমরা ব্যক্তিগত তথ্য এমন একটি কোম্পানির হাতে তুলে দিচ্ছি, যাদের গোপনীয়তা রক্ষার প্রমাণিত রেকর্ড নেই।”

ওপেন-এআই জানিয়েছে, অ্যাটলাসে শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ‘এজেন্ট মোড’ ব্যাংকের মতো সংবেদনশীল সাইটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে থেমে যাবে এবং ক্ষতিকর কোড চালানো বা ফাইল ডাউনলোড করতে পারবে না। তবে তারা স্বীকার করেছে যে, এতে এখনো ঝুঁকি রয়ে গেছে।

অ্যাটলাসের ভবিষ্যৎ কী?
গুগলও এআই দৌড়ে পিছিয়ে নেই। তারা তাদের ‘জেমিনি’ মডেলকে ক্রোম ব্রাউজারের সঙ্গে একীভূত করেছে। মাইক্রোসফট এজ-এও আগে থেকেই অনেক এআই ফিচার রয়েছে। বিশ্লেষক প্যাট মুরহেড মনে করেন, প্রাথমিক ব্যবহারকারীরা অ্যাটলাস পরীক্ষা করে দেখলেও সাধারণ ব্যবহারকারীরা তাদের পরিচিত ব্রাউজারেই এআই ফিচার যুক্ত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন।

স্ট্যাট কাউন্টারের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেও বৈশ্বিক ব্রাউজার মার্কেটের প্রায় ৭২% গুগলের দখলে। তাই অ্যাটলাসের জন্য এই দুর্গে হানা দেওয়া সহজ হবে না।

কবে পাওয়া যাবে?
বর্তমানে অ্যাটলাস অ্যাপলের ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। উইন্ডোজ, আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েডের জন্য এটি শিগগিরই ছাড়া হবে বলে জানিয়েছে ওপেন-এআই।