ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে চুল পাকা

সাবিনা নাঈম

নিজেকে সবাই যৌবনদীপ্ত দেখতে চায়। আয়নায় নিজের মুখ দেখতে গিয়ে অজান্তে চোখ পড়ে যায় মাথার চুলে। মাথার দু-একটি পাকা চুলের উপস্থিতি এভাবে ধরা পড়ে। বয়স হলে মাথায় চুল প্রায় সবারই সাদা হতে শুরু করে। তবে কারো কারো আগে আর কারো কারো পরে এই পাক ধরে। মোটকথা পাকা চুল হচ্ছে মাঝ বয়সের সংস্কৃতি। কিন্তু পাকা চুল সম্পর্কে এর বাইরে কিছু ধারণা প্রচলিত আছে। এছাড়া স্ট্রেস, অনিদ্রা ও অনিয়মিত জীবনধারা মেলানোসাইট কোষের ক্ষতি বাড়িয়ে দেয়। তাই নিয়মিত ঘুম, ব্যায়াম, সুষম খাবার ও মানসিক প্রশান্তি রাখলে চুলের পাকা কিছুটা কমানো সম্ভব এবং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়।

চুল পাকা মানেই বুড়ো হয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার ফল বলে মনে করে এসেছি এতদিন। কিন্তু সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর গবেষণা আমাদের এ ধারণাকে পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে! বিজ্ঞানীরা বলছেন, চুল পাকা আসলে আমাদের শরীরের এক অসাধারণ প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ, যা ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

গবেষণা নতুন একটি তথ্য মতে, আমাদের চুলের গোড়ায় থাকা ফলিকলগুলোর কিছু কোষ যখন ক্ষতির শিকার হয় বা ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে, তখন শরীর নিজেই সেই ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। এটি একটি ‘সেল প্রোটেকশন প্রসেস’ বা কোষ সুরক্ষা প্রক্রিয়া, যার মূল উদ্দেশ্য হলো শরীরকে ক্যানসারের মতো ম্যালিগন্যান্ট রোগ থেকে রক্ষা করা।

তবে এই শক্তিশালী প্রতিরোধ প্রক্রিয়ার একটি অপ্রত্যাশিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। যখন শরীর বিপজ্জনক কোষ ধ্বংস করে, তখন সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে চুলের রঞ্জক উৎপাদনকারী কোষগুলোও (পিগমেন্ট উৎপাদক সেল) নষ্ট হয়ে যায়। ফলে চুল তার প্রাকৃতিক রঙ হারিয়ে ফেলে এবং সাদা বা ধূসর হয়ে যায়।

গবেষকরা এ প্রক্রিয়াটিকে একটি দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন। একদিকে চুলের রঙ হারাচ্ছে, অন্যদিকে শরীর নিজেকে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি থেকে রক্ষা করছে। এর মানে হলো, যখন আপনার চুল পাকে, তখন আসলে আপনার শরীর ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে কাজ করছে!

সুতরাং পরের বার যখন আয়নায় আপনার সাদা চুল চোখে পড়বে, তখন ভয় না পেয়ে বরং গর্ব অনুভব করুন। এটি হতে পারে আপনার শরীরের একটি বিশেষ সংকেত যে, সে কঠিন রোগ থেকে আপনাকে রক্ষা করার জন্য নিরলস কাজ করে চলেছে।