শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: অভিযোগ গঠন পিছিয়ে ২১ জানুয়ারি

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগ গঠন পিছিয়ে আগামী ২১ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছেন আদালত।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক আব্দুস সালাম এই আদেশ দেন। এদিন মামলাটির অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য থাকলেও তিন জন আসামি উপস্থিত না থাকায় আদালত শুনানির পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।

শুনানির শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ও এপিপি সাইফুল্লাহ আল মামুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে, সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনসহ উপস্থিত ২৮ আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবীরা জামিন ও অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট মোরশেদ হোসেন শাহীন আদালতে দাবি করেন, এই মামলাটি যথাযথ ধারায় করা হয়নি। তাদের মতে, অভিযোগগুলো সাইবার অপরাধের আওতায় পড়লেও দণ্ডবিধির ভিন্ন ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে। তারা আরও দাবি করেন, জুম মিটিংয়ে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়নি এবং অনেক সাধারণ মানুষকে না জেনেই এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামক অনলাইন প্ল্যাটফর্মের এক মিটিংয়ে ড. রাব্বি আলমের সঞ্চালনায় শেখ হাসিনাসহ ৫ শতাধিক ব্যক্তি অংশ নেন। সিআইডির তদন্ত অনুযায়ী, ওই মিটিংয়ে বর্তমান সরকারকে উৎখাত করে গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর ষড়যন্ত্র করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত ১৪ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মামলার প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বি আলম, সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন, সাবেক এমপি সৈয়দ রুবিনা আক্তার, পংকজ নাথ এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ আরও অনেকে। এই মামলায় এখন পর্যন্ত ২৮ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং গত ১১ সেপ্টেম্বর সকল আসামির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

-লামিয়া আক্তার