সাইফুজ্জামান ও স্ত্রী রুখমিলার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

কর্মচারীকে ভুয়া ব্যবসায়ী সাজিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সেই অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রী রুখমিলা জামানসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দেওয়া চার্জশিট (অভিযোগপত্র) গ্রহণ করেছেন আদালত। বুধবার (৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
একই সঙ্গে আদালত এ মামলার পলাতক আসামি সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও রুখমিলা জামানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সাইফুজ্জামান চৌধুরী তার মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে মালিক সাজিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এরপর জাল নথিপত্র ব্যবহার করে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়।
তদন্তে দেখা গেছে, ওই সময় ইউসিবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন রুখমিলা জামান। ব্যাংকের ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিলেও সাইফুজ্জামানের প্রভাবে তা উপেক্ষা করে ঋণ অনুমোদন করা হয়। ঋণের প্রায় ১৫ কোটি টাকা সাইফুজ্জামানের নিজের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের দায় মেটাতে ব্যবহার করা হয় এবং বাকি প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা নগদ উত্তোলন করে দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়।
দুদকের উপপরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, রুখমিলা জামানের গাড়িচালকের প্রতিবেশীর বাসা থেকে ২৩ বস্তা নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব নথিতে বিদেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ১ হাজার ১০০-এর বেশি ফ্ল্যাট ও রিয়েল এস্টেট কেনার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুদকের তথ্যমতে, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর অন্তত ৯টি দেশে বিপুল সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে শুধু যুক্তরাজ্যেই ৩৪৩টি, দুবাইয়ে ২২৮টি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১০টি বাড়ির তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়াতেও তাঁর বিপুল সম্পদের হদিস মিলেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর আদালত তাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিলেও দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা কৌশলে আগেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।
– লামিয়া আক্তার