গুঞ্জন উড়িয়ে একসঙ্গে বচ্চনরা

নতুন বছরের শুরুতেই বলিউডে বইছে স্বস্তির হাওয়া। দীর্ঘদিনের গুঞ্জন আর জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে একসঙ্গে মুম্বাই ফিরলেন বি-টাউনের অন্যতম চর্চিত দম্পতি অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। সঙ্গে ছিল তাদের আদরের একমাত্র কন্যা আরাধ্য বচ্চন। মুম্বাই বিমানবন্দরে এই ত্রয়ীর হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতি যেন এক নিমেষেই সব নেতিবাচক আলোচনাকে ধুয়ে মুছে দিয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরে বলিপাড়ার বাতাসে অভিষেক-ঐশ্বরিয়ার বিচ্ছেদের খবর ভাসছিল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের আলাদা উপস্থিতি বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একে অপরকে শুভেচ্ছা না জানানো নিয়ে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল গভীর সংশয়। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জুম টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি বিমানবন্দরে তাদের এই মিলনময় উপস্থিতি প্রমাণ করেছে যে, বিচ্ছেদের সেইসব খবর ছিল নেহাতই ভিত্তিহীন। একে অপরের হাত ধরে এবং সাবলীল মেজাজে ক্যামেরায় ধরা দিয়ে তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাদের সম্পর্কে কোনো ফাটল ধরেনি।

ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন কেবল একজন বিশ্বসুন্দরী বা দাপুটে অভিনেত্রীই নন, তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ মা। বরাবরের মতো এবারও তাকে দেখা গেছে কন্যা আরাধ্যর প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ভূমিকায়। শুটিংয়ের ব্যস্ততা কিংবা গ্ল্যামার দুনিয়ার হাতছানি—সব কিছুর ঊর্ধ্বে তিনি সবসময় পরিবার ও সন্তানকে আগলে রাখাকেই অগ্রাধিকার দেন। অন্যদিকে অভিষেক বচ্চনও একজন দায়িত্বশীল স্বামী ও পিতা হিসেবে নিজের ইমেজ বজায় রেখেছেন।

পুরনো বছরকে বিদায় জানাতে এবং ২০২৬ সালকে নতুনভাবে বরণ করে নিতে অভিষেক তার পরিবারকে নিয়ে উড়াল দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে। সেখানে কোলাহলমুক্ত পরিবেশে স্ত্রী ও কন্যার সঙ্গে নিভৃতে দারুণ কিছু সময় কাটিয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে তাদের এই ঘনিষ্ঠতা দেখে উচ্ছ্বসিত ভক্তরা। ব্যস্ত কর্মজীবনের চাপ দূরে সরিয়ে পরিবারের সঙ্গে এই নিরিবিলি সময় কাটানোই ছিল তাদের নতুন বছরের সেরা উপহার।

বিমানবন্দরে ধরা পড়া এই পরিবারের হাসিমাখা মুখগুলো ভক্তদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার যে উদাহরণ তারা তৈরি করেছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে। নতুন বছরের শুরুতেই এমন একটি আনন্দঘন মুহূর্ত শোবিজ পাড়াকে উপহার দেওয়ার মাধ্যমে তারা প্রমাণ করলেন, বচ্চন পরিবারের ঐক্য এখনো অটুট। অভিষেক-ঐশ্বরিয়ার এই ফিরে আসা কেবল একটি সাধারণ ভ্রমণ নয়, বরং এটি তাদের মধ্যকার গভীর ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ। তাদের এই সুখী দাম্পত্য জীবন দীর্ঘস্থায়ী হোক—এমনটাই এখন ভক্তদের প্রত্যাশা।

-বিথী রানী মণ্ডল