মোস্তাফিজ বিতর্কে ভারতীয় টিভি সম্প্রচার নিয়ে কড়া বক্তব্য সোহেল রানার

মৌলবাদী হিন্দু গোষ্ঠীর হুমকির মুখে আইপিএল থেকে বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে। ক্রীড়াঙ্গনের একটি সিদ্ধান্ত ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কে। এরই মধ্যে বাংলাদেশে আইপিএলের প্রচার ও সম্প্রচার বন্ধের সরকারি নির্দেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ঘটনার সূত্রপাত আসন্ন আইপিএলের নিলামকে ঘিরে। রেকর্ড মূল্য ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে নেয় বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে। তবে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েনকে সামনে এনে ভারতের একটি মৌলবাদী হিন্দু গোষ্ঠী মোস্তাফিজকে দলে না নেওয়ার জন্য কেকেআরের মালিক শাহরুখ খান ও টিম ম্যানেজমেন্টকে প্রকাশ্য ও গোপন হুমকি দিতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় বিদ্বেষমূলক প্রচারণা।

এর পরিপ্রেক্ষিতেই গত ৩ জানুয়ারি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই ‘নিরাপত্তা ইস্যু’ দেখিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয় কেকেআরকে। সিদ্ধান্তটি প্রকাশ্যে আসতেই বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। অনেকেই এটিকে কেবল একটি খেলাধুলার সিদ্ধান্ত নয়, বরং রাজনৈতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার হিসেবে দেখছেন।

মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, একজন পেশাদার ক্রিকেটারকে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক কারণে বাদ দেওয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চেতনার পরিপন্থী। একই ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কার কথা তুলে ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভারতে অনুষ্ঠেয় ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলতে অনীহা প্রকাশ করে এবং ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে চিঠি দেয়।

এমন উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে আইপিএলের সব খেলা ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান প্রচার ও সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় সরকার। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব ফিরোজ খানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে টেলিভিশন চ্যানেলসহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই কূটনৈতিক প্রতিবাদের একটি বার্তা হিসেবে দেখছেন।

এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র অভিনেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ পারভেজ, যিনি সোহেল রানা নামেই বেশি পরিচিত। আজ ৫ জানুয়ারি বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, বাংলাদেশের টেলিভিশন যতক্ষণ ভারতে প্রচার করতে না পারবে, ততক্ষণ ভারতের টেলিভিশনও বাংলাদেশে সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা উচিত। একই দিনে আরেকটি পোস্টে তিনি ভারতীয় টেলিভিশন কনটেন্টের কড়া সমালোচনা করে বলেন, বউ-শাশুড়ির ঝগড়া নির্ভর নাটক আমাদের সামাজিক বন্ধনকে দুর্বল করছে।

সব মিলিয়ে মোস্তাফিজ ইস্যু এখন আর শুধু ক্রিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ছড়িয়ে পড়েছে রাজনীতি, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমে। একটি ক্রীড়া সিদ্ধান্ত কীভাবে দুই দেশের সম্পর্কের সংবেদনশীল জায়গাগুলোকে নাড়িয়ে দিতে পারে, এই ঘটনা তারই বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠছে।

বিথী রানী মণ্ডল/