ত্বকের যে পরিবর্তন দেখলেই বুঝবেন আপনার লিভারে সমস্যা

শরীরে কী অসুখ বাসা বাঁধছে, অনেক সময় বলে দিতে পারে আপনার মুখই! কয়েকটি লক্ষণ চোখমুখে দেখা দিলে সাবধান হওয়া প্রয়োজন। এগুলি ইঙ্গিত দেয় লিভার হয়তো সঠিক ভাবে কাজ করছে না।

শরীরে মেটাবলিক চাপের প্রথম লক্ষণ দেখা দেয় আপনার মুখেই। শরীরে লিভার হরমোন, টক্সিন এবং পুষ্টি উপাদান নিয়ন্ত্রণ করে। এই নিয়মের পরিবর্তন হলে মুখের ত্বক এবং স্নায়ুর পরিবর্তন হতে পারে।

লিভার শরীরের হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখে, হজমক্ষমতা, পেটের স্বাস্থ্য ভাল রাখা-সহ নানা রকম গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। তাই লিভারে সামান্য একটু সমস্যা দেখা দিলেই এর প্রভাব পড়ে সামগ্রিক শরীরেই।

ফ্যাটি লিভার নিয়ে চিকিৎসকেরাও উদ্বিগ্ন। ফ্যাটি বা সিরোসিস অফ লিভার বা লিভার ফেইলইওয়ের দিকে এগোচ্ছেন কি না, সেটা বলে দেবে আপনার মুখই। তাই যদি মুখে এই লক্ষণগুলি দেখা দেয়, তাহলে এই লক্ষণগুলি একেবারেই অবহেলা করবেন না।

ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হলে প্রথমেই চোখে আর মুখে হালকা হলুদ ভাব দেখা দিবে।  এটি মূলত জন্ডিস বলে পরিচিত। চিকিৎসকেরা বলেন, যখন লিভার শরীরে থাকা বিলিরুবিনকে সঠিকভাবে চ্যানেলাইজ় করতে পারে না, তখন জন্ডিসের মতো সমস্যা দেখা যায়। এই সমস্যায় চোখের সাদা অংশ ও মুখে হলুদ ভাব দেখা যায়। একইসঙ্গে প্রস্রাবও হলুদ হলে দ্রুত চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে।

ফ্যাটি লিভারের আরেকটি লক্ষণ হলো চেহারায় ফোলাভাব। শরীরে ফ্লুইড  রিটেনশনে সমস্যা হলে মুখে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। লিভারে ফ্যাট বা মেদের মাত্রা বেড়ে গেলে প্রোটিনের উৎপাদন কমে যায়। রক্তবাহী নালিকায় তরলের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে প্রোটিন। সেই প্রক্রিয়ায় সমস্যা হওয়ায় মুখ-চোখের নীচ ফুলে যেতে পারে।

অনেক সময় দেখা যায় যাঁর আগে কখনও ব্রণ হয়নি, হঠাৎ করে বেশি বয়সে এসে গাল, থুতনি বা কপালে ব্রণ বেরোতে শুরু করলে সতর্ক হতে হবে। আচমকা ত্বকের ধরন তৈলাক্ত হয়ে গেলে সতর্ক হতে হবে। যদি ত্বকে ব্রণ হওয়ায় সমস্যা হঠাৎ করে দেখা দেয়, বিশেষ করে কপালে, গালে হঠাৎ ব্রণ হয় তাহলে সেটা ফ্যাটি লিভারের মতো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। লিভার যখন টক্সিন ও হরমোনকে সঠিকভাবে ব্যালেন্স করতে পারে না, তখন শরীরের তৈলগ্রন্থি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এতে ব্রণর মতো সমস্যা বাড়তে পারে।

মুখের ত্বকে লাল জালিকার মতো শিরা উপশিরা দেখা দেয়, তাহলে তা লিভারের সমস্যার ইঙ্গিত করতে পারে। চিকিৎসকেরা বলছেন, শরীরে কোষ প্রসারিত হলে এই ধরণের সমস্য়া হয়। শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে মুখে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায়। এই ধরণের সমস্যা দেখলে সতর্ক হোন। ত্বকের ঔজ্জ্বল্য কমে যাওয়া, ত্বকে অযথা চুলকানি হওয়া, ত্বক শুকিয়ে যাওয়া বা ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়ার কারণ ফ্যাটি লিভার হতে পারে। তবে ওজন হ্রাস,স্বাস্থ্যকর খাদ্য, প্রতিদিন হাঁটা এবং সময় মতো পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে ফ্যাটি লিভার সারিয়ে তোলা সম্ভব।

এধরণের সমস্যা দেখা দিলে করণীয়

সমস্যা হলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার। তবে লিভার ভাল থাকে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসেও। টাটকা শাক, সব্জি, মাছ, মাংস খাওয়া জরুরি। নিয়মিত হাঁটাহাটি বা শরীরচর্চাও ফ্যাটি লিভারের সমস্যা এড়ানোর জন্য ভাল। মোদ্দা কথা শরীরে বাড়তি মেদ জমতে দেওয়া যাবে না। মদ্যপান, ধূমপান, ভাজাভুজি, অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস এড়ানো গেলেই লিভার ভাল থাকবে।

-সাবিনা নাঈম