ফুল ক্রিম মিল্ক না স্কিম মিল্ক কোনটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো!

স্কিম মিল্কের চেয়ে ফুল ক্রিম দুধ বেশি উপকারী কিনা, তা নির্ভর করে আপনার স্বাস্থ্য চাহিদা ও জীবনযাত্রার ওপর, তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে ফুল ক্রিম দুধে থাকা ন্যাচারাল ফ্যাট ভিটামিন শোষণ ও তৃপ্তি বাড়াতে সাহায্য করে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণ ও রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করতে পারে, এবং এটি স্কিম মিল্কের চেয়ে কম প্রক্রিয়াজাত হওয়ায় অনেকে বেশি প্রাকৃতিক মনে করেন। যদিও স্কিম মিল্কে ক্যালরি ও ফ্যাট কম থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় বলে প্রচলিত ধারণা ছিল, নতুন গবেষণা বলছে, দুগ্ধজাত ফ্যাট হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় না, বরং ফুল ক্রিম দুধে থাকা ফ্যাট-দ্রবণীয় ভিটামিন (এ, ডি) ও ওমেগা-৩ ভালো শোষণ হয় এবং এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, যা অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া থেকে বিরত রাখে। 

ফুল ক্রিম মিল্ক

দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে ধারণা ছিল, কম ফ্যাটযুক্ত খাবার সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। সেই কারণে অনেকেই স্কিম মিল্ক বা ফ্যাট ফ্রি দুধ বেছে নেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই ফুল ক্রিম মিল্ক এবং স্কিম মিল্কের চেয়ে বেশি উপকারী হতে পারে। আসলে স্কিম মিল্কে ফ্যাট কম থাকলেও তা সব সময় শরীরের জন্য ভাল ফল দেয় না। বরং পুরো দুধ রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং পুষ্টি শোষণে বেশি সাহায্য করে।

ফুল ক্রিম দুধের সুবিধা:

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুল ক্রিম মিল্কে স্বাভাবিক গঠন বজায় থাকে। এতে থাকা ফ্যাট শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং উপকারী। পুরো দুধ থেকে কী কী উপকার পেতে পারেন, জেনে নিন-

  • বেশি পুষ্টি ও ভিটামিন শোষণ: এতে ন্যাচারাল ফ্যাট থাকায় ভিটামিন এ, ডি, ই, কে-২ এর মতো ভিটামিনগুলো ভালোভাবে শোষিত হয়, যা কৃত্রিমভাবে যোগ করা ভিটামিনের চেয়ে কার্যকর।
  • ভালো তৃপ্তি ও কম রক্তে শর্করার স্পাইক: ফুল ক্রিম মিল্কে ফ্যাট বেশি থাকায় এটি পেট ভরা রাখে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়তে দেয় না, যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ও ওজন কমাতে সহায়ক হতে পারে।
  • কম প্রক্রিয়াজাত: ফুল ক্রিম এটি স্কিম মিল্কের চেয়ে কম প্রক্রিয়াজাত, ফলে বেশি প্রাকৃতিক।
  • ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড:স্কিম মিল্কের তুলনায় এতে ওমেগা-৩ বেশি থাকে, যা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ও প্রদাহ কমাতে উপকারী।
  • ব্লাড সুগার স্পাইক কম হয়: পুরো দুধে থাকা ফ্যাট ও প্রোটিন একসঙ্গে কাজ করে, যার ফলে রক্তে শর্করা ধীরে ধীরে বাড়ে। এতে হঠাৎ সুগার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
  • দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে: দুধ খেলে তাড়াতাড়ি খিদে পায় না। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে।
  • ভিটামিন শোষণ ভালো হয়: ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে-এই সব ভিটামিন শরীরে ঠিকভাবে কাজ করতে ফ্যাটের প্রয়োজন। পুরো দুধে এই সুবিধা প্রাকৃতিকভাবেই থাকে।
  • কম প্রক্রিয়াজাত: পুরো দুধ সাধারণত কম প্রক্রিয়াকরণ করা হয়, তাই এটি বেশি প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর।

স্কিম মিল্কে কী সমস্যা? স্কিম মিল্ক তৈরির সময় দুধের প্রাকৃতিক ফ্যাট আলাদা করে ফেলা হয়। এই ফ্যাটের সঙ্গে সঙ্গে দুধের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানও কমে যায়। বিশেষ করে ভিটামিন এ ও ভিটামিন ডি, যেগুলো শরীর ঠিকভাবে শোষণ করতে ফ্যাট প্রয়োজন হয়। অনেক সময় এই ভিটামিনগুলো পরে কৃত্রিমভাবে স্কিম মিল্কে যোগ করা হয়। কিন্তু ফ্যাট না থাকায় শরীর সেগুলো ঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারে না। ফলে স্কিম মিল্ক দেখতে স্বাস্থ্যকর মনে হলেও, বাস্তবে তার পুষ্টিগুণ পুরো দুধের তুলনায় কম হয়।

স্কিম মিল্কের সুবিধা:

  • কম ক্যালরি ও ফ্যাট:ওজন কমাতে বা ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে স্কিম মিল্ক ভালো বিকল্প, কারণ এতে ফ্যাট ও ক্যালরি কম থাকে।
  • “খারাপ” কোলেস্টেরল কমায়: এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম থাকায় “খারাপ” কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়।

সব সময় কম ফ্যাটই ভালো, ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিমাণে পুরো দুধ অনেকের স্কিম মিল্কের চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর হতে পারে। তাই দুধ বাছার সময় শুধু ফ্যাট নয়, পুরো পুষ্টির দিকটি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সাবিনা নাঈম