আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দুদিনে বড় ধরনের নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কঠোর স্ক্রটিনিতে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল, ঋণখেলাপি এবং চাকরিরত অবস্থায় মনোনয়ন জমার মতো কারণে অনেক প্রার্থীর দৌড় থেমে গেছে। তবে অধিকাংশ আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূল প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রংপুরে৬প্রার্থীরমনোনয়নবাতিল:
রংপুর-৩ ও রংপুর-৪ আসনে ২০ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান।
রংপুর–৩ (সদর): এই আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী রিটা রহমান, বাসদের আনোয়ারুল ইসলাম বাবলু এবং খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডলের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, বিএনপির সামসুজ্জামান সামু, জামায়াতের মাহবুবুর রহমান বেলাল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তৃতীয় লিঙ্গের আনোয়ারা ইসলাম রানীর মনোনয়ন বৈধ বলে গৃহীত হয়েছে।
রংপুর–৪ (পীরগাছা–কাউনিয়া): এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ্ আলম বাশার, জয়নুল আবেদিন এবং জাতীয় পার্টির (আনিস-রুহুল) আব্দুস ছালামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা এবং এনসিপির আখতার হোসেনের প্রার্থিতা বৈধ পাওয়া গেছে।
গাইবান্ধায়জামায়াতপ্রার্থীরপ্রার্থিতাবাতিল:
গাইবান্ধার প্রথম দুটি আসনেই ব্যাপক কড়াকড়ি দেখা গেছে। ১৮ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৮ জনেরই মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
গাইবান্ধা–১ : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকায় লাভজনক পদের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর মো. মাজেদুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিলের কারণে সালমা আক্তার ও মোস্তফা মহসিনের মনোনয়ন বাতিল হয়।
গাইবান্ধা–২ (সদর): এখানে সিপিবির মিহির কুমার ঘোষ ও খেলাফত মজলিসের একেএম গোলাম আযমের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে হলফনামায় ত্রুটি ও দলীয় মনোনয়নের অসংগতির কারণে।
দিনাজপুর: স্বতন্ত্রপ্রার্থীরহোঁচট, ৯জনইবৈধএকআসনে
দিনাজপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম প্রথম দফার যাচাই-বাছাই শেষে দিনাজপুরের দুটি আসনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন।
দিনাজপুর–১ : এই আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মঞ্জুরুল হক চৌধুরীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন তালিকায় তথ্যের গরমিল ছিল।
দিনাজপুর–২ : এই আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। আনন্দের বিষয় হলো, যাচাই-বাছাই শেষে এই আসনের সব ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওপ্রার্থীরমনোনয়নস্থগিত
ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে যাচাই-বাছাইয়ের শুরুতেই বড় চমক দেখা গেছে। এই আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।
ঠাকুরগাঁও : এই আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী এবং বর্তমান সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পুরনো একটি মামলা থাকার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ এখন ঝুলে গেল।
কুড়িগ্রাম: বাতিলওস্থগিতেরকবলে৪প্রার্থী
কুড়িগ্রামের ৪টি সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার অন্নপূর্ণা দেবনাথ। মোট ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত এসেছে।
কুড়িগ্রাম–২ও৩: এই দুটি আসনে ২ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা সরাসরি বাতিল করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম–৩: এই আসনে আরও ১ জনের প্রার্থিতা স্থগিত রাখা হয়েছে।
নীলফামারী: ১শতাংশভোটারেরকারণে৩স্বতন্ত্রেরবিদায়
নীলফামারী-১ ও ২ আসনে প্রথম দিনের যাচাই-বাছাইয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাযিরুজ্জামান ৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন।
নীলফামারী–১ : ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাকি ৯ জনের আবেদন সঠিক পাওয়া গেছে।
নীলফামারী–২ : এই আসনে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন বৈধ হয়েছেন। বাকি ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী-আবুল হাসনাত মো. সাইফুল্লাহ রুবেল ও মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
বাতিলেরকারণ: এই ৩ স্বতন্ত্র প্রার্থীর দাখিলকৃত ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন তালিকায় সঠিকতা পাওয়া যায়নি বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
সংক্ষুব্ধদেরআপিলেরসুযোগ
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এই সিদ্ধান্তের ফলে যারা বাদ পড়েছেন, তারা হতাশ না হয়ে আইনি লড়াইয়ের কথা জানিয়েছেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিধি মোতাবেক ৫ থেকে ১০ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিলের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পাবেন প্রার্থীরা।