ব্রেন–কম্পিউটার ইন্টারফেস চিপের ব্যাপক উৎপাদনে যাচ্ছে নিউরালিংক

কল্পবিজ্ঞানের গল্পে মানুষের মস্তিষ্কের সঙ্গে যন্ত্রের সরাসরি সংযোগের ধারণা থাকলেও বাস্তবে সেই প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিচ্ছে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান নিউরালিংক। ব্রেন–কম্পিউটার ইন্টারফেস (বিসিআই) প্রযুক্তির আওতায় তৈরি তাদের তারহীন চিপ ইতিমধ্যে মানবদেহে পরীক্ষামূলকভাবে সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। পরীক্ষার ইতিবাচক ফল পাওয়ায় এবার বড় পরিসরে চিপ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, নিউরালিংক ২০২৬ সাল থেকে বিসিআই প্রযুক্তির চিপ বাণিজ্যিক মাত্রায় উৎপাদন শুরু করতে চায়। একই সঙ্গে চিপ বসানোর জন্য যে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়, সেই প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে দ্রুত ও তুলনামূলকভাবে সহজ উপায়ে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউরালিংকের তৈরি তারহীন এই চিপ মূলত মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত বা গুরুতর স্নায়বিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তার উদ্দেশ্যে তৈরি। মানবদেহে প্রথম পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একজন ব্যক্তি এই চিপের সাহায্যে নিজের মস্তিষ্কের সংকেত ব্যবহার করে ভিডিও গেম খেলতে, ইন্টারনেট চালাতে এবং ল্যাপটপের কারসর নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছেন। নিউরালিংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে তীব্র পক্ষাঘাতে আক্রান্ত অন্তত ১২ জনের মস্তিষ্কে এই চিপ স্থাপন করা হয়েছে। তারা চিন্তার মাধ্যমেই বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের পাশাপাশি কিছু বাস্তব সরঞ্জামও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন।

তবে নিউরালিংকের এই যাত্রা সহজ ছিল না। নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) ২০২২ সালে প্রথম দফায় মানবদেহে পরীক্ষার অনুমোদন দেয়নি। পরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সংশোধন সম্পন্ন করার পর ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি মানব পরীক্ষার অনুমতি পায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউরালিংকের এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে স্নায়বিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

সাবরিনা রিমি/