ঘরে থেকেও ক্লান্ত লাগার কারণ

ছবি: সংগৃহীত

সকাল থেকে রাত ঘরেই কাটছে সময়। বাইরে দৌড়ঝাঁপ নেই, তবু দিন শেষে মনে হয় শরীরের সব শক্তি যেন ফুরিয়ে গেছে। সোফায় বসে থাকলেও ক্লান্তি কাটে না, ঘুমিয়েও আরাম মেলে না। প্রশ্নটা তাই অনেকেরই ঘরে থেকেও এত ক্লান্ত লাগে কেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্লান্তি শুধু শারীরিক নয়; এর বড় অংশটাই মানসিক ও আচরণগত।

রুটিন ভেঙে গেলে শরীরও ভেঙে পড়ে

ঘরে থাকার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে দৈনন্দিন রুটিনে। কখন ঘুম, কখন খাবার, কখন কাজ—সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। শরীর একটি নির্দিষ্ট সময়চক্রে অভ্যস্ত। সেই ছন্দ নষ্ট হলে শক্তির ভারসাম্যও ভেঙে পড়ে। মনোবিজ্ঞানীদের ভাষায়, শরীর ঘড়ির মতো কাজ করে। সময়ের শৃঙ্খলা না থাকলে ক্লান্তি স্বাভাবিক।

কাজ কম, চিন্তা বেশি

ঘরে থাকলে শারীরিক কাজ কমে যায়, কিন্তু মানসিক কাজ বেড়ে যায় বহুগুণ।
কাজের ডেডলাইন, পারিবারিক দায়িত্ব, অর্থনৈতিক চিন্তা, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে মস্তিষ্ক সারাক্ষণ সচল থাকে। বাইরে না গেলেও মাথার ভেতরের এই ‘অদৃশ্য দৌড়ঝাঁপ’ মানসিক ক্লান্তি তৈরি করে।

নড়াচড়া কমে গেলে শক্তিও কমে

ঘরে থাকলে হাঁটা–চলা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা শুয়ে থাকা রক্ত সঞ্চালন ধীর করে দেয়। ফলে শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না, দেখা দেয় ঝিমুনি ও অবসাদ।

দিনভর মাত্র কয়েকশ’ কদম হাঁটলেও তার প্রভাব পড়ে শক্তির ওপর।

স্ক্রিনে বন্দী জীবন

ঘরে থাকা মানেই স্ক্রিনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানো—মোবাইল, ল্যাপটপ, টিভি।
এই অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম চোখের পাশাপাশি মস্তিষ্ককেও ক্লান্ত করে। নীল আলো ঘুমের স্বাভাবিক হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়, ফলে রাতে ঘুম হয় কম, সকালে উঠে লাগে আরও ক্লান্ত।

সূর্যের আলো না পেলে মনও মলিন

ঘরে বেশি সময় কাটালে শরীর পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় না। এতে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি তৈরি হয়, যা ক্লান্তি, মনখারাপ ও অনীহার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

জানালার পাশে বসে কিছু সময় কাটানো বা সকালে রোদে দাঁড়ানো—এই ছোট অভ্যাসই বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

কাজ আর বিশ্রামের সীমা মুছে যাওয়া

একই ঘরে কাজ, খাওয়া, বিশ্রাম সবকিছু চলতে থাকলে মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে।
কখন কাজ শেষ, কখন বিশ্রাম এই সংকেত সে আর পায় না। ফলে বিশ্রামও আর বিশ্রাম থাকে না।

নিজের জন্য সময় নেই

ঘরে থাকলেও অনেকেই নিজের জন্য সময় বের করতে পারেন না। অনলাইন কাজ, পরিবার, সামাজিক যোগাযোগ সব সামলাতে গিয়ে নিজের প্রয়োজন উপেক্ষিত থাকে। এই অবহেলাই ধীরে ধীরে ক্লান্তিকে বাড়িয়ে তোলে।

তাহলে করণীয় কী?

ঘরে থেকেও ক্লান্তি কাটাতে বিশেষ কিছু দরকার নেই দরকার শুধু সচেতনতা।প্রতিদিন নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা
দিনে অন্তত ২০–৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম স্ক্রিন থেকে নিয়মিত বিরতি সকালে বা বিকেলে সূর্যের আলো পাওয়া কাজ ও বিশ্রামের জন্য আলাদা সময় ও জায়গা নির্ধারণ প্রতিদিন নিজের জন্য কিছুটা একান্ত সময়

ঘর মানেই বিশ্রাম এই ধারণা এখন আর পুরোপুরি সত্য নয়।
সঠিক অভ্যাস আর যত্ন না নিলে, ঘরের মধ্যেও ক্লান্তি বাসা বাঁধতে পারে।
তাই বাইরে না গেলেও, নিজের শরীর মনকে সময় দিতে শিখতে হবে কারণ ক্লান্তি সব সময় চোখে দেখা যায় না।

সাবরিনা রিমি/