ফয়জুল করিমের ব্যাংকে মাত্র ১ হাজার ১৭৬ টাকা, স্ত্রীর আছে ১৮৭ ভরি স্বর্ণালংকার

বরিশাল-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর জোটের প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির শায়খ চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম স্ত্রীর ১৮৭ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। এর পাশাপাশি তার স্ত্রীর ৭ লাখ ২০ হাজার নগদ টাকা ও বিভিন্ন খাতে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে।

ফয়জুল করিমের ব্যাংকে জমা রয়েছে মাত্র ১ হাজার ১৭৬ টাকা থাকলেও অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে হাতে রয়েছে নগদ ৩১ লাখ ১২ হাজার ৪৭ টাকা। পাশাপাশি তার স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই দেখিয়েছেন। স্ত্রীর ১৮৭ ভরি স্বর্ণালংকার উপহার হিসেবে পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

হলফনামায় ফয়জুল করিম নিজের পেশা হিসেবে শিক্ষকতা ও দাওয়াত উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি তার স্ত্রীর পেশা গৃহিণী ও ব্যবসা বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আয়কর সংক্রান্ত তথ্যে তিনি জানিয়েছেন, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তার বার্ষিক আয় ১৪ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা এবং মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৬৪ লাখ ৯ হাজার ৯৩১ টাকা। এ জন্য তিনি আয়কর রিটার্নে কর পরিশোধ করেছেন ৯৬ হাজার ৪৭৫ টাকা।

অন্যদিকে তার স্ত্রীর ক্ষেত্রে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ টাকা এবং সম্পদের পরিমাণ ৩২ লাখ ৬০ হাজার ২০০ টাকা। এ আয় ও সম্পদের বিপরীতে তিনি ১৫ হাজার টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, মুফতি ফয়জুল করিমের স্ত্রীর মালিকানায় রয়েছে ১৮৭ ভরি স্বর্ণালংকার, যা উপহার হিসেবে পাওয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্ত্রীর কাছে নগদ রয়েছে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন খাতে মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর পেশা হিসেবে গৃহিণী ও ব্যবসার কথা উল্লেখ রয়েছে।
নিজের পেশা হিসেবে ফয়জুল করিম শিক্ষকতা ও দাওয়াতি কাজের কথা উল্লেখ করেছেন। অস্থাবর সম্পদের হিসাবে তার হাতে নগদ রয়েছে ৩১ লাখ ১২ হাজার ৪৭ টাকা। তবে ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ দেখানো হয়েছে মাত্র ১ হাজার ১৭৬ টাকা। তার স্ত্রীর কোনো ব্যাংক হিসাব নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।
হলফনামায় আরও দেখা যায়, তার বিরুদ্ধে অতীতে মোট তিনটি মামলা ছিল। আয়ের উৎস হিসেবে তিনি দেশের অভ্যন্তরে একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বছরে ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা, ধর্মীয় মাহফিল থেকে ৪ লাখ টাকা এবং শিক্ষকতা পেশা থেকে ৭ লাখ ৬ হাজার টাকা বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন।
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ১ হাজার ৬০ শতাংশ কৃষি জমি ও ৩৭ দশমিক ৬০ শতাংশ অকৃষি জমির কথা উল্লেখ করেছেন, যার মূল্য ধরা হয়েছে ৩৩ লাখ ১৩ হাজার ২২৩ টাকা।
স্থাবর সম্পদের বিবরণে তিনি জানিয়েছেন, তার নামে রয়েছে মোট ২ হাজার ৪৩৬ শতাংশ কৃষি জমি, যার মূল্য ১ কোটি ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৬০ টাকা। এছাড়া ২ দশমিক ৪০ শতাংশ অকৃষি জমির মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ১৪৮ টাকা। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৬০ শতাংশ।
এছাড়া উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত একটি বাণিজ্যিক ভবনের দোকান অংশ রয়েছে ৬৬১ বর্গফুট এবং একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে ২ হাজার ১৩ বর্গফুট আয়তনের। এসব সম্পত্তির অর্জনকালীন মূল্য ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ ৬ হাজার ৭০৮ টাকা, যার বর্তমান বাজারমূল্য দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার ১২৪ টাকা।
অস্ত্রের হিসাবে তিনি ২২ বোরের একটি রাইফেল থাকার তথ্য দিয়েছেন।
মামুন/