সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে হিসাব করলে আমাদের জীবনের একটি বড় অংশ কাটে অফিসের চার দেয়ালের মাঝে। এই দীর্ঘ সময়টি যদি কেবল ফাইলের স্তূপ আর যান্ত্রিক ডেডলাইনের চাপে পিষ্ট হয়, তবে কর্মজীবন হয়ে ওঠে একঘেয়ে ও যন্ত্রণাদায়ক। অথচ আধুনিক কর্মসংস্কৃতি বলছে, একটি অফিস কতটা সফল, তা কেবল লাভের অংকে নয় বরং কর্মীদের স্বতস্ফূর্ত প্রাণচাঞ্চল্যে মাপা উচিত। একটি প্রাণবন্ত অফিস কেবল কাজের পরিবেশ উন্নত করে না, বরং কর্মীর মানসিক সুস্থতাও নিশ্চিত করে।
কেন প্রাণবন্ত পরিবেশ অপরিহার্য?
একঘেয়ে ও গুমোট পরিবেশে মস্তিষ্ক স্থবির হয়ে পড়ে। যখন কর্মীরা চাপমুক্ত থাকেন এবং হাসিখুশি পরিবেশে কাজ করেন, তখনই নতুন ও উদ্ভাবনী চিন্তা মাথায় আসে। প্রাণবন্ত পরিবেশ কর্মীর ভেতরের সৃজনশীল সত্তাকে জাগিয়ে তোলে। টানা কাজ আর মানসিক চাপ মানুষকে দ্রুত বিষণ্ণ করে তোলে। কিন্তু অফিসের পরিবেশ যদি বন্ধুত্বপূর্ণ হয়, তবে সহকর্মীদের সাথে ছোটখাটো হাসি-ঠাট্টা বা সহযোগিতামূলক আচরণ সেই মানসিক চাপ কাটিয়ে উঠতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। কর্মী যখন অফিসে নিজেকে নিরাপদ এবং সমাদৃত মনে করেন, তখন প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর এক ধরণের দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। তিনি কেবল ‘বেতন’ পাওয়ার জন্য কাজ করেন না, বরং প্রতিষ্ঠানকে নিজের মনে করে সেরাটা উজাড় করে দেন।
কিভাবে অফিসকে প্রাণবন্ত রাখা যায়?
প্রতিষ্ঠানের পদমর্যাদার দূরত্ব যেন মানুষের সাথে মানুষের দূরত্ব না বাড়িয়ে দেয়। কর্মীরা যেন নির্ভয়ে তাদের সমস্যা বা আইডিয়া শেয়ার করতে পারেন, এমন একটি ‘ওপেন ডোর পলিসি’ বা উন্মুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা জরুরি। মানুষের একটি স্বভাবজাত চাহিদা হলো স্বীকৃতি। কারো ছোট কোনো অর্জন বা ভালো কাজের জন্য সবার সামনে একটু হাততালি বা প্রশংসা পুরো টিমের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। টানা কম্পিউটারের পর্দায় তাকিয়ে না থেকে এক কাপ চা হাতে সহকর্মীর সাথে কিছুক্ষণ কথা বলা কিংবা একটু আড্ডা দেওয়া মোটেও সময় নষ্ট নয়। এটি বরং মস্তিষ্ককে পুনরায় সচল করে তোলে।
নেতৃত্বের ভূমিকাঃ একটি অফিস প্রাণবন্ত হবে কি না, তার সিংহভাগ নির্ভর করে নেতৃত্বের ওপর। একজন দক্ষ নেতা কেবল নির্দেশ দেন না, বরং তিনি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেন যেখানে সবাই সবার পরিপূরক। সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকুক, কিন্তু তা যেন ব্যক্তিগত বিদ্বেষে রূপ না নেয়, সেদিকে নজর রাখা জরুরি।
আমরা রোবট নই যে কেবল ইনপুট আর আউটপুটে আমাদের জীবন সীমাবদ্ধ থাকবে। দিনশেষে আমরা রক্ত-মাংসের মানুষ। অফিস যখন আনন্দের উৎস হয়ে ওঠে, তখন কাজ আর বোঝা মনে হয় না। তাই আসুন, আমাদের কর্মক্ষেত্রকে এমনভাবে সাজাই যেন প্রতিদিন সকালে অফিসে যাওয়ার উদ্দীপনা নিয়ে আমরা ঘুম থেকে জাগতে পারি।
-সানা










