নতুন বছরে সিদ্ধান্ত নেন সবাই, ভাঙে কেন বেশিরভাগ রেজোলিউশন

ছবি:সংগৃহীত

নতুন বছর এলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডায়েরির পাতায় কিংবা বন্ধুদের আড্ডায় ঘুরে ফিরে আসে এক পরিচিত শব্দ নিউ ইয়ার রেজোলিউশন। কেউ ঠিক করেন ওজন কমাবেন, কেউ নিয়মিত ব্যায়াম করবেন, কেউ ধূমপান ছাড়বেন বা সময় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনবেন। কিন্তু জানুয়ারি পেরোতেই অনেকের সেই দৃঢ় সিদ্ধান্ত কোথায় যেন মিলিয়ে যায়। প্রশ্ন হলো সবাই সিদ্ধান্ত নেন, তবু বেশিরভাগ রেজোলিউশন ভাঙে কেন?

১. অতিরিক্ত বড় লক্ষ্য, কম বাস্তবতা

অনেকেই নতুন বছরে নিজের ওপর অযথা বড় চাপ তৈরি করেন। যেমন—একেবারে শূন্য থেকে প্রতিদিন এক ঘণ্টা ব্যায়াম, পুরোপুরি জাঙ্ক ফুড বর্জন বা হঠাৎ করে ভোরে ওঠার কঠোর রুটিন। লক্ষ্য বড় হলে অনুপ্রেরণা বাড়ে ঠিকই, কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে না মিললে কিছুদিন পরই ক্লান্তি আসে। তখনই সিদ্ধান্ত ভাঙার পথ তৈরি হয়।

২. “সব না হলে কিছুই না” মানসিকতা

একদিন ব্যায়াম করতে না পারলেই অনেকের মনে হয় সব শেষ। এই অল-অর-নাথিং ভাবনা রেজোলিউশনের বড় শত্রু। নিয়ম ভাঙলেই নিজেকে ব্যর্থ ভাবা হয়, ফলে পরের দিন নতুন করে শুরু করার আগ্রহ কমে যায়।

৩. অভ্যাস বদলানো যে সময়সাপেক্ষ

মানুষের মস্তিষ্ক পুরোনো অভ্যাসে স্বস্তি খোঁজে। হঠাৎ করে দীর্ঘদিনের অভ্যাস বদলাতে গেলে মানসিক প্রতিরোধ তৈরি হয়। গবেষণায় দেখা যায়, একটি নতুন অভ্যাস গড়ে তুলতে গড়ে ৬৬ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। অথচ আমরা চাই কয়েক সপ্তাহেই ফল।

৪. বাহ্যিক অনুপ্রেরণার ওপর নির্ভরতা

অনেক রেজোলিউশন আসে সামাজিক চাপ বা ট্রেন্ড থেকে—বন্ধু জিমে যাচ্ছে, তাই আমিও যাব; সবাই ডায়েট করছে, আমিও করব। কিন্তু নিজের ভেতরের চাহিদা বা ‘কেন’টা স্পষ্ট না হলে এই অনুপ্রেরণা দ্রুত ফুরিয়ে যায়।

৫. পরিকল্পনার অভাব

“ভালো থাকব” বা “আরো স্বাস্থ্যবান হব” এ ধরনের অস্পষ্ট লক্ষ্য রেজোলিউশন টিকতে দেয় না। কীভাবে, কখন, কতটা—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না থাকলে সিদ্ধান্ত কাগজেই থেকে যায়।

তাহলে রেজোলিউশন টিকবে কীভাবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ছোট কৌশল অনুসরণ করলে সিদ্ধান্ত ভাঙার হার কমানো সম্ভব—

ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন: একেবারে প্রতিদিন এক ঘণ্টা নয়, শুরু করুন ১০–১৫ মিনিট দিয়ে।
স্পষ্ট পরিকল্পনা করুন: কী করবেন, কখন করবেন লিখে রাখুন।
ভুলকে স্বাভাবিক ভাবুন: একদিন ব্যর্থ মানেই সব শেষ নয়। পরের দিন আবার শুরু করুন।
নিজের জন্য সিদ্ধান্ত নিন: অন্যকে দেখে নয়, নিজের প্রয়োজন বুঝে রেজোলিউশন করুন।
অগ্রগতি উদযাপন করুন: ছোট সাফল্য নিজেকে মনে করিয়ে দিন।

নতুন বছর মানেই নিখুঁত জীবন নয়, বরং ধীরে ধীরে ভালো হওয়ার সুযোগ। রেজোলিউশন ভেঙে গেলে হতাশ না হয়ে, সেটিকে শেখার অভিজ্ঞতা হিসেবে নিলে হয়তো আগামী বছর নয় এই বছরই বদলে যেতে পারে অনেক কিছু।

সাবরিনা রিমি/