মামুনুল হকের কোনো বাড়ি নেই, আয় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে জমা দেওয়া হলফনামায় নিজের আয় ও সম্পদের হিসাব তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসা ও শিক্ষকতা মিলিয়ে তার বার্ষিক আয় ১৩ লাখ টাকার বেশি। বর্তমানে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট আর্থিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
মাওলানা মামুনুল হক এবার ঢাকা-১৩ এবং বাগেরহাট-১ আসন থেকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ইসি তাদের ওয়েবসাইটে প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশ করার পর এসব তথ্য সামনে আসে।
আয় ও পেশা
৫৩ বছর বয়সী মামুনুল হক পেশা হিসেবে হলফনামায় ‘শিক্ষকতা’ উল্লেখ করেছেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা মাস্টার্স/এমবিএ। আয়ের প্রধান দুটি উৎস হলো শিক্ষকতা ও ব্যবসা। শিক্ষকতা থেকে আয়: বছরে ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৮৯০ টাকা। ব্যবসায়িক আয়- বছরে ৬ লাখ ৫৮ হাজার ৪৪৪ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর মোট বার্ষিক আয় ১৩ লাখ ১৫ হাজার ৩৩৪ টাকা। তবে চলতি অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে তিনি ৮ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯০ টাকা আয় দেখিয়ে ৪৯ হাজার ৩৪ টাকা কর প্রদান করেছেন।
সম্পদের বিবরণ
হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মামুনুল হকের ১ কোটি ৬৭ লাখ ৯১ হাজার ৩৯৫ টাকার সম্পদ রয়েছে, তার নিজস্ব নেই কোনো বাড়ি । তার দেওয়া তথ্যমতে-
১. অস্থাবর সম্পদ: তার মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৮৬ লাখ টাকার বেশি। এর মধ্যে রয়েছে:
  • নগদ টাকা: ৮৩ লাখ ২ হাজার ৮৩৭ টাকা।
  • শেয়ার ও বন্ড: বিভিন্ন কোম্পানিতে ১ লাখ টাকার শেয়ার।
  • আসবাবপত্র: ২ লাখ টাকা সমমূল্যের আসবাব।
২. স্থাবর সম্পদ: তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে অকৃষিজমি, যার অর্জনকালীন আর্থিক মূল্য ৮১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৫৮ টাকা।
মামলার চিত্র
এক সময় অসংখ্য মামলার জালে থাকলেও হলফনামা অনুযায়ী মামুনুল হকের বর্তমান মামলার সংখ্যা অনেক কমে এসেছে। ২০১২ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে মোট ৩৮টি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এর মধ্যে অধিকাংশ মামলাতেই তিনি খালাস, অব্যাহতি পেয়েছেন অথবা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৩টি ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে। যার মধ্যে একটি উচ্চ আদালত কর্তৃক স্থগিত এবং বাকি দুটি বিচার ও তদন্তাধীন পর্যায়ে আছে।
উল্লেখ্য, মাওলানা মামুনুল হক তার স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ঢাকার লালবাগ এবং বর্তমান ঠিকানা হিসেবে মোহাম্মদপুর উল্লেখ করেছেন।

 

-এম এইচ মামুন