বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও কথাটি সমভাবে প্রযোজ্য। আইইডিসিআরের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ডা. জাকির হোসাইন হাবিব অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারকে সাইলেন্ট প্যানডেমিক হিসেবে অভিহিত করে বলেন-
“বাংলাদেশে বহু মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে ফার্মেসীতে গিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে সেবন করে। তাদের মধ্যে ধারণাই নাই যে এর ফলে তার শরীর অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যাচ্ছে এবং পরবর্তীতে কোন সংক্রমণ হলে সেটা আর কোন ওষুধে হয়তো সারবে না”
এ-কারণে আগে যে অ্যান্টিবায়োটিককে মনে করা হতো যে-কোনো জীবাণুর বিরুদ্ধে অব্যর্থ, তা এখন অনেক ক্ষেত্রে কাজই করছে না। বিশেষত আইসিইউতে থাকা অধিকাংশ রোগীর ইনফেকশনকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক তেমন একটা কাজ করতে পারছে না। দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ ক্ষমতা (এএমআর) বিপজ্জনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, দেশের আইসিইউতে ভর্তি রোগীর ৪১ শতাংশ কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে সাড়া দিচ্ছে না।
২৪ নভেম্বর ২০২৫ ‘ন্যাশনাল এএমআর সার্ভেলেন্স রিপোর্ট ’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত দেশের ৯৬,৪৭৭ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পাঁচটি আইসিইউতে ৭১ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হলে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অযথা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার ভবিষ্যতে চিকিৎসার ব্যর্থতা এবং রোগপ্রতিরোধে জটিলতা বাড়াতে পারে।
প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করতে হবে। জনগণের সচেতনতা জরুরি। কোনও ব্যক্তি নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করবেন না। অনেক রোগী দোকানের কর্মী বা অবৈধ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক নেন, যা রেজিস্ট্যান্সের প্রধান কারণ। মানুষ প্রায়শই ফার্মেসি বা হাতুড়ে ডাক্তারের কাছ থেকে অ্যান্টিবায়োটিক নেন, চিকিৎসা পরামর্শ ছাড়াই এবং এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
অবশ্য রোগের উপসর্গ তীব্র হলে এটি সেবন করা যেতে পারে। তবে তা অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক; তার দেয়া মাত্রা, সময় ও মেয়াদ অনুসরণ করে। অর্থাৎ, বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া যেমন যাবে না, তেমনি ডোজ শেষ না করে একটু সুস্থ ঠেকলেই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করা যাবে না। এ-দুটো নিশ্চিত করা গেলে আশা করা যায় অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হওয়া বহুলাংশে ঠেকানো সম্ভব হবে।
অ্যান্টিবায়োটিকের ভুল ব্যবহার রোধের জন্য আমাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। শুধু চিকিৎসকদের মধ্যে নয়, জনগণের মধ্যে নয়, এটা আমাদের সবার মধ্যেই। প্রথম অবস্থায় অভিভাবকদের এই সচেতনতা বাড়াতে হবে। অভিভাবকদের আরো বেশি সচেতন হতে হবে। এজন্য চিকিৎসকদের ওপর বিশ্বাস আনতে হবে। যখন কেউ চিকিৎসকের কাছে যাবেন, চিকিৎসক যেভাবে বলবেন সেটা মেনে চলতে হবে।
সাবিনা নাঈম










