নিজেকে ঠিক করে চিনতে, ভেতরের আমিটাকে আরও বেশি করে জানতেই নিজেকে ভালোবাসুন। একটু নিজের মতো একলা থাকুন। আনন্দ খুঁজে নিন নিজের মতো করেই। আর সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরাও তাই জোর দিচ্ছেন Self love-এ। বলা হয়ে থাকে আত্মপ্রেম শ্রেষ্ঠ প্রেম, আত্মপ্রেম স্বার্থপর নয়। কারণ যে নিজেকে ভালোবাসত পারে, সে অন্যকেও ভালোবাসতে পারে।
একজন নারীর শুধু শারীরিক সুস্থতাই নয় তার মানসিক স্বাস্থ্য যেন ভালো থাকে, সে দিকে নজর রাখা জরুরি। কিন্তু পরিবারে সেই নজরটা রাখার কেউ থাকেনা। সেজন্য অন্য কাউকে নয়, আপনাকেই রাখতে হবে নিজের যত্ন। অন্যরা যতটা না আমাদের ক্ষতি করে, আমরা নিজেরা তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ক্ষতি করি। মানসিক স্বাস্থ্য আপনার মনকে ভালো রাখবে এতে আপনার দৃষ্টিভঙ্গিকে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করবে।
কিন্তু নারীরা সবসময় অন্যের জন্য ভাবতে ভাবতে নিজের জন্য ভাবতে ভুলে যায়। তারা চাইলেই হয়তো নিজেদের জন্য সময় বের করতে পারে কিন্তু তা হয়ে উঠে না। নারীরা নিজেই নিজেদের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন নয়। তাই আত্মবিশ্বাস অর্জন করার জন্য এবং নিজেকে অন্যের কাছে তুলে ধরার জন্য সবার আগে নিজেকে ভালোবাসতে হবে।
অন্যের মতামত নিয়ে চিন্তা না করা
সমাজে অনেকেই অনেক কথা বলবে। তাই বলে সব কথা নিয়ে চিন্তা করা ঠিক নয় অর্থাৎ সমাজ আপনার সম্পর্কে কী ভাবে তা নিয়ে চিন্তা করবেন না। আপনি সবাইকে খুশি করতে পারবেন না। তাই এটি আপনার সময়ের অপচয় এবং শুধু অন্যের কথা নিয়ে বসে থাকলে আপনার নিজের কাজেও সমস্যা হবে।
অপ্রিয় মানুষ এড়িয়ে চলুন
আপনার জীবনে যদি এমন কেউ থাকে যে আপনার জীবনে বিষন্নতা আনছে এবং তারা এর জন্য দায় নেবে না, এর অর্থ হতে পারে আপনাকে তাদের থেকে দূরে সরে যেতে হবে। তাহলে এদের থেকে দূরে থাকুন এবং নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিন। এই কাজটি অনেকসময় বেদনাদায়ক হলেও আপনার জন্য বেশ দরকারি।
নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিন
আমরা প্রায়শই নিজেদের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেই না। নিজেদের কাজ করার ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ করি এবং বেশিরভাগ সময়ে বুঝতে পারি না কোনটি সঠিক সিদ্ধান্ত হবে। এই সময়ে দেখা যায় অন্যের কোথায় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি; কিন্তু তা করবেন না। আপনি নিজেকে অন্যের থেকে ভাল জানেন তাই নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিন।
সাহসিকতা দেখান
আপনার মনের কথা বলার অভ্যাস করুন। সাহসিকতা হলো একটি পেশির মতো আপনি যত বেশি ব্যায়াম করেন ততই এটি বৃদ্ধি পাবে। নিজের মতামত দিতে দ্বিধাবোধ করবেন না। যেখানে মনে হবে আপনার মতামত দেয়া উচিত সেখানে সাহসিকতার সাথে কথা বলবেন কারণ আপনার কথাও অন্য কারোর মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের জন্য সময় বের করুন
এই ব্যস্ত জীবন থেকে মুক্তি পেতে নিজের জন্য সময় বের করা বেশ জরুরি। তাই নিজের ভালো লাগার কাজগুলো করুন। কোথাও ঘুরতে যাওয়া, শপিং করা, ব্যায়াম করা কিংবা শখের কাজ করা যা ভালো লাগে করুন। খুব বেশি সময় না পেলেও কম সময়ের জন্য হলেও নিজের শখের কাজগুলো করলে নিজেকে মানসিকভাবে অনেকটাই প্রফুল্ল রাখা যায়, যা আপনাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রফুল্ল রাখবে।
সবশেষে নিজেকে প্রাধান্য দিতে শিখুন এবং নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস রাখুন। তাই সকল নারীর উচিত নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করে নিজেদের ভালো গুণাবলিকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়া।
সাবিনা নাঈম










