ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসন থেকে লড়তে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে ফেনী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হকের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মনোনয়নপত্র তুলে দেওয়া হয়। বিএনপি নেত্রীর শারীরিক অসুস্থতার কথা মাথায় রেখে একই আসনে দলের বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও ফেনী-১ আসনের নির্বাচনী সমন্বয়ক রফিকুল আলম মজনু।
মনোনয়নপত্র জমাদানের সময় রফিকুল আলম মজনু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব, ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার এবং আলাল উদ্দিন আলালসহ জেলা ও উপজেলার জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনেই এই আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে রেকর্ড গড়েছেন খালেদা জিয়া। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এই আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, যেখান থেকে নির্বাচিত হয়ে তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
একই দিনে ফেনীর অন্য দুটি সংসদীয় আসনেও উৎসবমুখর পরিবেশে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ফেনী-২ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এই আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া তাদের প্রার্থিতা দাখিল করেন। অন্যদিকে, ফেনী-৩ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক এবং জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এছাড়া ফেনী-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এস এম কামাল উদ্দিন তার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
ফেনী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানান যে, এখন পর্যন্ত ফেনী-১ আসনে ১৩ জন, ফেনী-২ আসনে ১৬ জন এবং ফেনী-৩ আসনে ১৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই জমাদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরপরই স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা এলাকায় ব্যাপক প্রচারপত্র বিলি ও সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করেছেন।
আফরিনা সুলতানা/










