টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সাহেব ভট্টাচার্য পর্দায় বর্তমানে যতই নেতিবাচক বা ‘খল’ চরিত্রে নজর কাড়ুন না কেন, বাস্তব জীবনে তিনি একেবারেই বিপরীত মেরুর মানুষ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর ব্যক্তিজীবন, অভিনয় এবং ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কিছু অকপট তথ্য উঠে এসেছে।
পর্দায় সাহেবের গায়কী সত্তা আমরা দেখেছি, তবে বাস্তবেও তিনি গান ভীষণ ভালোবাসেন। বিশেষ করে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে তিনি বেশ পটু। তবে তাঁর স্বভাবের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো তাঁর ধৈর্য। পর্দায় রাগী বা মারকুটে চরিত্রে দেখা গেলেও, বাস্তবে সাহেব একেবারেই গালমন্দ করতে পারেন না। এমনকি অভিনয়ের প্রয়োজনেও যদি কাউকে কটু কথা বলতে হয়, তবে তিনি বেশ অস্বস্তিতে পড়েন। তিনি জানান, নিজেকে বারবার বোঝাতে হয় যে যা করছেন তা কেবলই অভিনয়।
সুপুরুষ অভিনেতা হিসেবে টলিউডে সাহেবের বেশ সুনাম। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে নারীসঙ্গ বা প্রেম নিয়ে। সাহেব হেসে জানান, পর্দার ‘লম্পট’ ইমেজের সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। ছোটবেলায় দু-একটি প্রেম থাকলেও, বিয়ের পর থেকে তিনি একনিষ্ঠ।
মজার বিষয় হলো, সাহেবের অনুরাগিণীদের বড় অংশই হয় তাঁর থেকে বয়সে ছোট, নয়তো অনেকটা বড়। ফলে তাঁর স্ত্রী তাঁকে নিয়ে খুব একটা দুশ্চিন্তা বা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন না।
সন্দীপ রায়ের ‘হত্যাপুরী’ থেকে শুরু করে ‘বিজয়া’ বা ‘ব্ল্যাক উইডো’—সাহেবকে ইদানীং খলনায়কের চরিত্রে বেশি দেখা যাচ্ছে। সাহেব স্বীকার করেন যে, অভিনেতা হিসেবে তিনি প্রতিটি চরিত্রই উপভোগ করেন এবং জানপ্রাণ দিয়ে অভিনয় করেন বলেই চরিত্রগুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে। তবে একটি আক্ষেপও ফুটে উঠেছে তাঁর কথায়।
তিনি মনে করেন, দর্শকরা তাঁকে নেতিবাচক চরিত্রে দেখতে খুব একটা অভ্যস্ত নন, তবুও ইন্ডাস্ট্রির একটি ‘টাইপকাস্টিং’ বা অলিখিত নিয়ম আছে। একবার কোনো একটি বিশেষ চরিত্রে সফল হলে বারবার সেই ধরনের চরিত্রই অফার করা হয়। সেই তকমা ঝেড়ে ফেলা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
বিথী রানী মণ্ডল/










