জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আবারও ভাঙনের খবর পাওয়া গেছে। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন রোববার দুপুরে এনসিপি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আজ দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ফেসবুক পোস্টে তাজনূভা জাবীন এনসিপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতার উদ্যোগকে তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করছেন না বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এনসিপির পক্ষ থেকে তাজনূভা জাবীনকে ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল। তবে পদত্যাগের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তিনি জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আর অংশ নিচ্ছেন না। নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যে আর্থিক সহায়তা তিনি পেয়েছিলেন, তা পর্যায়ক্রমে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান তিনি। কীভাবে এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তিনি কিছু সময় প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।
নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে এনসিপির ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ চলছিল। সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালে দলের ভেতরে বিরোধ আরও প্রকাশ্য হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সন্ধ্যায় দল ছাড়ার ঘোষণা দেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য তাসনিম জারা। এর আগে বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেন জামায়াতবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত নেতা মীর আরশাদুল হক।
তাজনূভার ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো—
‘আপনারা অনেকে ভাবছেন, হয়তো জামায়াতের সাথে জোটে ঐতিহাসিক কারণ বা নারী বিষয়ের কারণে আমার আপত্তি। এর চেয়েও ভয়ঙ্কর যে কারণ, সেটা হল যে প্রক্রিয়ায় এটা হয়েছে। এটাকে রাজনৈতিক কৌশল, নির্বাচনী জোট ইত্যাদি লেভেল দেয়া হচ্ছে। আমি বলব এটা পরিকল্পিত। এটাকে সাজিয়ে এ পর্যন্ত আনা হয়েছে।
এটা আদর্শের চেয়েও অনেক বড়, সেটা হল বিশ্বাস। মাত্র কিছুদিন আগে সমারোহে সারাদেশ থেকে মনোনয়ন সংগ্রহের ডাক দিয়ে ১২৫ জনকে মনোনয়ন দিয়ে ৩০ জনের জন্য সীট সমঝোতা করে বাকিদের নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তে সীল মোহর বসানো হয়েছে। বিষয়টা ঠেলতে ঠেলতে একদম শেষ অবধি এনেছে যাতে কেউ স্বতন্ত্র নির্বাচনও করতে না পারে। আগামীকাল মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ তারিখ। আমার অবশ্য এই মুহূর্তে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ইচ্ছা নাই। পুরো আগোছালো করে চোখের পলকে ডিসওউন করে দিয়েছে।
বিভিন্ন পত্রিকায় নানান খবর প্রকাশিত হচ্ছে। আমি মনোনয়ন হারানোর ভয়ে জোটের বিরোধিতা করছি। আমি কিছুদিন আগে লিখেও ছিলাম আমার আসনে নেগোনিয়েশন হলে আমি নির্বাচন করব না, যত কঠিন প্রতিপক্ষ হোক আমি ফাইট দেব। দিলো না। তাদের গোষ্টীর ভাইরা তাদের পক্ষে দিস্তায় দিস্তায় লিখে ভরায় ফেলছে কেন আর কিভাবে এই জোট। কিন্তু কোন জেনারেল, ইসি মিটিং এর সিদ্ধান্ত এরকম ছিল না জোট হলে বাকি আসনে প্রার্থীকে বসে যেতে হবে। আবার বাকি আসনগুলোতে জামায়াতের হয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা করতে হবে। জামায়াতের সাথে চরমোনাই পীরের ৭০টা আসনে সমঝোতা হচ্ছে। আর গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেয়া দলের ৩০টা আসনে।
এনসিপি শুরু থেকে যে গণপরিষদ, সেকেন্ড রিপাবলিক মধ্যপন্থার, নারী, বিভিন্ন জাতিসত্তাকে নিয়ে রাজনীতি করার কথা বলছে সেটা ধারন করে যে কয়জন পার্টিতে ছিল তাদের মধ্যে আমি একজন। এই পার্টির একজন ফাউন্ডার মেম্বার আমি। স্বাভাবিকভাবেই ভীষণ মন খারাপ। কিন্তু এই দল ছেড়ে দেয়া ছাড়া আমার সামনে আর কোন সম্মানজনক অপশন নাই। দলের খারাপ সময়ে দল ছেড়ে দিয়ে অরাজনৈতিক, অপরিপক্কতার পরিচয় ইত্যাদি বয়ান দিবে অনেকে। জাস্ট বুলশিট। শুধু এটুকু বলি, আমি বহিরাগত ওখানে, আমাকে প্রতারিত করলে মেইক সেন্স। কিন্তু এক শীর্ষ নেতা আরেক শীর্ষ নেতার সাথে যে মাইনাসের রাজনীতি করে ওখানে সেটা ভয়ঙ্কর। এরা নিজেদের মধ্যে রাজনীতি করতে এতো ব্যস্ত এরা কখনো দেশের জন্য নতুন একটা মধ্যপন্থার বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি করতে পারবে না।
সাবরিনা রিমি/










