সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়ে ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক রিয়াজ আহমেদের মৃত্যুর খবর। এই খবর প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভক্ত ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে রিয়াজের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তারা এমন কোনো তথ্য পাননি। সমিতির কর্মকর্তা এবং শিল্পী মহলও নিশ্চিত করতে পারছেন না যে রিয়াজ কোথায় আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থার সত্যিই কোনো সমস্যা হয়েছে কি না। এই গুজবের পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সংবাদ এবং অনিয়ন্ত্রিত তথ্যের ভূমিকা রয়েছে।
গত বছরের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে রিয়াজ আত্মগোপনে রয়েছেন বলে শোনা গেছে। তবে তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কেউ বলছেন তিনি ভারতে অবস্থান করছেন, আবার কেউ মনে করছেন তিনি দেশের ভিতরেই আছেন, তবে জনচক্ষে নয়। এদিকে, অভিনেতার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে, যা অনেকে গুজবকে আরো বিশ্বাসযোগ্য মনে করতে বাধ্য করেছে।
বুধবার সন্ধ্যায় রিয়াজের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানা যায়, তিনি জীবিত আছেন এবং সুস্থ রয়েছেন। রিয়াজের স্ত্রী তিনা জানান, “এ ধরনের খবর একেবারেই সত্য নয়। যেখানেই আছে, ভালো আছে। অনুরাগীদের চিন্তার কিছু নেই।” এই বিবৃতি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে গুজবগুলো অনেকটা নস্যাৎ হয়েছে।
বর্তমানে রিয়াজের মৃত্যুর খবর নিছক গুজব হিসেবে মনে করা হচ্ছে। যদিও তার অবস্থান ও কার্যক্রমকে ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ধরনের অপ্রমাণিত তথ্যের ফলে তার ভক্ত এবং সাধারণ মানুষ দিশাহীন হয়ে পড়েছেন। তবে পরিবার এবং ঘনিষ্ঠজনরা নিশ্চিত করেছেন, তিনি সুস্থ আছেন এবং নিজের স্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছেন।
রিয়াজের রাজনৈতিক পরিচয়ও ছিল আলোচনার বিষয়। তিনি শেখ হাসিনার পতনের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বিভিন্ন সময় দলের প্রচারণা ও জনসভায় অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে তাকে। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ও স্থানীয় সামাজিক সমস্যার বিষয়ে দেওয়া তাঁর বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের দিক থেকে রিয়াজ নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ থেকে টানা প্রায় দুই দশক ধরে ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ‘বাংলার নায়ক’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর থেকে তিনি উপহার দিয়েছেন বহু সুপারহিট ছবি। তার অভিনীত সিনেমা প্রযোজক ও দর্শক উভয়ের কাছেই প্রশংসিত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায় তার অভিনীত সিনেমা ‘অপারেশন সুন্দরবন’। এরপর থেকে নতুন কোনো ছবিতে বা প্রকাশ্যে তাকে দেখা যায়নি।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হয়ে গেল যে জনপ্রিয় ব্যক্তি সম্পর্কে অননুমোদিত গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং সামাজিক মাধ্যমে তা বড় আকার ধারণ করতে পারে। রিয়াজ আহমেদের অনুরাগীদের জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার সুস্থতা এবং নিরাপত্তা, যা পরিবারের বিবৃতির মাধ্যমে নিশ্চিত করা গেছে। চলচ্চিত্র অঙ্গনের সবাইও এই গুজবের বিষয়ে সাবধান থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
বিথী রানী মণ্ডল/










