চার্চে উড়ো চিঠি, হুমকিতে উদ্বেগ খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতাদের

বড়দিনের উৎসবের প্রস্তুতির মধ্যেই সাম্প্রতিক হামলা ও হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতারা। গত ২ ডিসেম্বর ‘তৌহিদী মুসলিম জনতা’ পরিচয়ে দেশের অন্তত ২১টি চার্চ ও কয়েকজন ব্যক্তির কাছে হুমকিমূলক উড়ো চিঠি পাঠানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে ঢাকার রমনা এলাকার সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রাল চার্চসহ বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে এক হিন্দু পোশাক শ্রমিককে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশের ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু আর্চবিশপ বিজয় এন ক্রজের প্রতিনিধি ফাদার আলবার্ট রোজারিও বলেন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়া গেলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় উদ্বেগ কাটছে না। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাড়া দিলেও মূল হোতাদের এখনো ধরতে পারেনি।”

খ্রিস্টান নেতারা জানান, হামলা ও হুমকির ঘটনার একটি তালিকা স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং বড়দিন উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।

এদিকে পুলিশ বলছে, বড়দিন উপলক্ষে সারাদেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, চার্চে হামলা ও উড়ো চিঠির পেছনে কারা জড়িত তা তদন্ত করা হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালালে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানায় পুলিশ।

ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বা হুমকির যেকোনো ঘটনা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

তবে ধারাবাহিক এসব ঘটনায় বিচার ও প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা এখনো কাটেনি।

এমইউএম/