বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ঘিরে স্মৃতিচারণ করেছেন জাইমা রহমান। খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছোটবেলার একটি ছবি পোস্ট করে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমি দাদুর পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই।”
দাদুকে নিয়ে তার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর একটি হলো অভিভাবক হিসেবে খালেদা জিয়ার মমতাময়ী রূপ। তিনি উল্লেখ করেন, তার বয়স যখন এগারো, তখন স্কুল ফুটবল টিম একটি টুর্নামেন্ট জিতলে তিনি মেডেল পান। মা ডা. জুবাইদা রহমান তাঁকে সরাসরি দাদুর অফিসে নিয়ে যান; যেন তিনি নিজেই দাদুকে বিজয়ের গল্পটি বলতে পারেন। গোলকিপার হিসেবে কীভাবে খেলেছেন সে কথা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বলার সময় তিনি অনুভব করেছিলেন দাদু গভীর মনোযোগ দিয়ে তাঁর কথা শুনছেন। পরে সেই গল্প অন্যদের কাছেও গর্বের সঙ্গে বলতেন খালেদা জিয়া।
আরো লেখেন, তিনি সবসময় জানতেন তার দাদুর কাঁধে একটি দেশের দায়িত্ব ছিলো। তিনি পরিবারের খোঁজ রাখতেন, সময় দিতেন এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে সাহস ও প্রেরণা জোগাতেন। এই ছোট ছোট অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি নেতৃত্বের প্রথম শিক্ষা পেয়েছেন আরো পেয়েছেন নম্রতা, আন্তরিকতা ও মন দিয়ে শোনার মানসিকতা।
দেশের বাইরে কাটানো ১৭ বছর তার জীবনকে অনেকভাবে বদলে দিয়েছে। তবে তিনি কখনো নিজের শিকড় ভুলে যাননি। লন্ডনে কাটানো দিনগুলো তাকে বাস্তববাদী ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন করেছে।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাকে শৃঙ্খলা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান দিয়েছে, আর মানুষের সঙ্গে কাজ করা তাকে শিখিয়েছে দায়িত্ববোধ ও মানবিকতা। আইন পেশায় কাজ করতে গিয়ে তিনি কাছ থেকে দেখেছেন মানুষের জীবনের গল্প, সংগ্রাম। ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদেরকে শোনা ও সমাধানের চেষ্টা করার অভিজ্ঞতা তাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।
তিনি আরও লেখেন, তিনি কখনো তাঁর ‘দাদা’কে দেখেননি, তবে সততা ও দেশপ্রেমের গল্প শুনেই বড় হয়েছেন। সেই আদর্শই দাদু ও আব্বু বহন করে চলেছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান এবং ৫ আগস্টের আগে-পরে তিনি নেপথ্যে থেকে যতটা পেরেছেন ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন—কম বলেছেন, বেশি শুনেছেন।
দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, অনেক বছর পর দেশে ফেরা তার জন্য আবেগ ও অনুভূতির এক অনন্য সংমিশ্রণ। দেশে ফিরে তিনি দাদুর পাশে থাকতে চান এবং এই সময়ে বাবাকেও সহায়তা করতে চান। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য নিজের সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে বাংলাদেশকে নতুন করে জানতে চান। তার পরিবারকে ঘিরে জনগণের কৌতূহল ও প্রত্যাশা রয়েছে । সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়ভার তিনি অনুভব করেন।
উল্লেখ্য দীর্ঘ ১৮ বছর পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সাবরিনা রিমি/










