দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় ছয় দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত কয়লা মজুত থাকা সত্ত্বেও বিক্রির ব্যবস্থা না করা এবং বাজারদরের চেয়ে অনেক কম দামে কয়লা কিনতে বাধ্য করার মাধ্যমে খনিটিকে কৃত্রিমভাবে লোকসানের দিকে নেওয়া হচ্ছে। এটি চলতে থাকলে খনিটির ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২৫ হাজার পরিবার জীবিকা হারাবে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় খনি শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের আয়োজনে সিবিএ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দাবি উপস্থাপন এবং পূরণ না হলে কয়লা খনি রক্ষায় রাজপথ-রেলপথ অবরোধের হুঁশিয়ারি দেন শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কাশেম শিকদারের সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিবিএর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। এতে বক্তব্য দেন খনি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রায়হানুল ইসলাম, শ্রমিকনেতা রবিউল ইসলাম প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০০৫ সালে বাণিজ্যিকভাবে চালুর পর থেকে খনিটি অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসানে থাকলেও বড়পুকুরিয়া খনি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট, ট্যাক্স ও রয়্যালটি বাবদ সরকারি কোষাগারে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে
এবং জাতীয় পর্যায়ে একাধিকবার শ্রেষ্ঠ করদাতার পুরস্কার পেয়েছে।
বর্তমানে খনিটির কোল ইয়ার্ডে কয়লা রাখার জায়গা নেই। ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতা ২ লাখ ২০ হাজার টন হলেও সেখানে পাঁচ লাখ টনের বেশি কয়লা জমা হয়ে আছে। কয়লার স্তূপ ১৫ ফুটের বদলে ৫০ ফুট উঁচুতে পৌঁছেছে, যার ফলে ইতোমধ্যে সীমানা প্রাচীর ভেঙে পড়া এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটেছে। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকায় এই কয়লা ব্যবহার হচ্ছে না, আবার অন্য কোথাও বিক্রির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। কয়লা না সরালে নতুন উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হবে।
শ্রমিক ও খনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি টন কয়লা উৎপাদনে খরচ হয় ১৫০ থেকে ১৭৬ ডলার। অথচ পিডিবি মাত্র ৯১ থেকে ১১০ ডলারে কয়লা কিনছে। এতে প্রতিষ্ঠানটি বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। শ্রমিকদের আশঙ্কা, এই কৃত্রিম লোকসানকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে খনিটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
খনির মহাব্যবস্থাপক কে এম রাজিবুল আলম জানান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ কয়লা জমে থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তবে কয়লা বিক্রির সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছেন, আগামী মার্চ থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট চালু হলে কয়লার এই বিশাল মজুত ব্যবহারের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে।
সানা










