ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে কুমিল্লা, শরীয়তপুর ও পটুয়াখালী জেলার তিনটি আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে অনিয়ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্বাচনী এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে সেসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে পুনরায় ভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোট।
বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে প্রায় ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, কুমিল্লা-৮, শরীয়তপুর-২ ও পটুয়াখালী-১ (মির্জাগঞ্জ) আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেননি। বিভিন্ন অনিয়ম ও ভীতি প্রদর্শনের কারণে স্বাভাবিক ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ভোট স্থগিত করে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা-৮ আসনে ভোট শুরুর পরপরই প্রায় ৩০টি কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়। বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। এ নিয়ে ওই আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন শফিকুল আলম হেলাল লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া নরসিংদী-৪ (বেলাবো) আসনে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ব্যালটে সিল মারার অভিযোগ তোলা হয়। টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুরের বিভিন্ন কেন্দ্রেও এজেন্ট বের করে দেওয়ার তথ্য কমিশনকে জানানো হয়েছে।
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে সহিংসতার ঘটনায় এক প্রার্থীর ভাই আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি ঝালকাঠি, পাথরঘাটা, শরীয়তপুর ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট, অনিয়ম ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে অভিযোগপত্রে।
১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও এবি পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জুর গাড়িবহরে হামলার ঘটনাও কমিশনের নজরে আনা হয়েছে বলে জানান মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল।
তিনি বলেন, অনিয়মের প্রমাণ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের কাছে শতাধিক ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের লিংক জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে কমিশন তাৎক্ষণিক বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভোটের পরিসংখ্যান নিয়ে তিনি বলেন, দেশে প্রায় ৪৩ হাজার কেন্দ্রের মধ্যে ৩২ হাজার কেন্দ্রের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, বাকি প্রায় ১০ হাজার কেন্দ্রের তথ্য তখনও যুক্ত হয়নি বলে কমিশন জানিয়েছে। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন। তবে যেসব কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো দ্রুত সংশোধন করা হলে একটি সুষ্ঠু ও পরিছন্ন ফলাফল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, ভোটগ্রহণ চলমান থাকায় কমিশনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিনিধিদলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি ১১ দলীয় জোটভুক্ত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এবি পার্টির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
_এজাজ আহম্মেদ/মামুন










