আয়কর রিটার্ন
অনলাইন রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো স্ক্যান করা ডকুমেন্ট বা কাগজের কপি আপলোড করার প্রয়োজন হয় না। তবে রিটার্ন সাবমিট করার সময় আপনার আয়ের উৎস এবং বিনিয়োগের সকল তথ্য (যেমন: বেতন বিবরণী, ব্যাংকের সুদের সনদ, শেয়ার বাজারের স্টেটমেন্ট বা ডিপিএস-এর তথ্য) হাতে রাখা জরুরি, কারণ এই তথ্যগুলো ফরমে টাইপ করে দিতে হয়।
গত ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ২০২৫-২৬ কর বছরের জন্য অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
৬৫ (পঁয়ষট্টি) বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকেরা ছাড়া দেশের সব করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কী কী তথ্য দিতে হবে
আয়ের বিপরীতে আপনি বেতন–ভাতা পান, ব্যবসা করলে আয়ের হিসাব–নিকাশের কাগজপত্র, কৃষি থেকে আয়ের প্রমাণপত্র, সঞ্চয়পত্রসহ অন্য উৎসের মুনাফা বা আয়ের কাগজপত্র ইত্যাদি থেকে আয়ের তথ্য–উপাত্ত লাগে।
করদাতা ই-রিটার্নে তাঁর আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য-উপাত্ত রিটার্নে দিলেও সেসব কাগজপত্র ও দলিলাদি করদাতাকে নিজ দায়িত্ব রাখতে হবে।
ভবিষ্যতে কর কর্মকর্তারা যদি আপনার রিটার্নটি নিরীক্ষা বা অডিটে ফেলেন কিংবা কোনো তথ্যের ব্যাখ্যা চান, তখন এসব কাগজপত্র কাজে লাগবে। এমনকি কর কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে প্রমাণ হিসেবে এসব কাগজপত্র চাইতে পারেন।
যা যা লাগে
অনলাইনে রিটার্ন জমার সময় সাধারণত যেসব কাগজপত্রের তথ্য লাগে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—বেতন খাতের আয়ের দলিল, সিকিউরিটিজের ওপর সুদ আয়ের সনদ, ভাড়ার চুক্তিপত্র, পৌর করের রসিদ, বন্ধকি ঋণের সুদের সনদ, মূলধনি সম্পদের বিক্রয় কিংবা ক্রয়মূল্যের চুক্তিপত্র ও রসিদ, মূলধনি ব্যয়ের আনুষঙ্গিক প্রমাণপত্র, শেয়ারের লভ্যাংশ পাওয়ার ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট, সুদের ওপর উৎসে কর কাটার সার্টিফিকেট।
বিনিয়োগ করে কর রেয়াত পেতে চাইলেও কিছু কাগজপত্র লাগবে। যেমন জীবন বীমার কিস্তির প্রিমিয়াম রসিদ, ভবিষ্য তহবিলে দেওয়া চাঁদার সনদ, ঋণ বা ডিবেঞ্চার, সঞ্চয়পত্র, শেয়ারে বিনিয়োগের প্রমাণপত্র, ডিপোজিট পেনশন স্কিমে (ডিপিএস) চাঁদার সনদ, কল্যাণ তহবিলের চাঁদা ও গোষ্ঠী বিমার কিস্তির সনদ, জাকাত তহবিলে দেওয়া চাঁদার সনদ।
কীভাবে অনলাইনে জমা দেবেন
সব করদাতা ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন এই ওয়েবসাইটে জমা দিতে হবে।
অনলাইনে রিটার্ন জমার আগে প্রথমে করদাতাকে নিবন্ধন নিতে হবে। নিবন্ধন নিতে করদাতার নিজের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ও বায়োমেট্রিক করা মুঠোফোন নম্বর লাগবে। অনলাইনে রিটার্ন জমা দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাপ্তি রসিদ মিলবে।
কীভাবে কর দেবেন
করদাতারা ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদ অথবা অন্য কোনো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাপ ব্যবহার করে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারেন।
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের জন্য রাজস্ব বোর্ডের কর্মীরা কল সেন্টার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সেবা প্রদান করবেন।
মামুন










