ক্যারিবিয়ানদের হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করল নিউজিল্যান্ড

সিরিজ বাঁচাতে রেকর্ড ৪৬২ রান তাড়া করে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরুটা ভাল হলেও দ্রুত ছন্দ হারায় ক্যারিবিয়ানরা। শেষ পর্যন্ত মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩২৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২–০ ব্যবধানে জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড।

পঞ্চম দিনের শুরুতে বিনা উইকেটে ৪৩ রান নিয়ে মাঠে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরে স্কোর দাঁড়ায় ৮৭–০। কিন্তু সেখান থেকে মাত্র ১১ রান যোগ করতেই পাঁচ উইকেট হারায় রোস্টন চেজের দল। মধ্যাহ্নভোজের পর কিউই বোলারদের তোপের মুখে দ্রুতই গুটিয়ে যায় ক্যারিবিয়ানরা। লক্ষ্য তাড়ায় দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৩৮ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

নিউজিল্যান্ড পেসার জ্যাকব ডাফি প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে নেন ৫ উইকেট। পঞ্চম দিনের খেলায় ৮৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন তিনি। ৬৭ রান করা ব্র্যান্ডন কিংকে ফেরানোর পর শুরু হয় উইকেট পতনের মিছিল। প্রথম জুটির পর কেবল নবম উইকেটেই দুই অঙ্কের জুটি গড়তে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন ব্র্যান্ডন কিং। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬ রান আসে জন ক্যাম্পবেলের ব্যাটে। বিনা উইকেটে ৮৭ রান থেকে মাত্র ৫১ রান যোগ করেই অলআউট হয়ে যায় ক্যারিবিয়ানরা।

এর আগে চতুর্থ দিনে ২ উইকেটে ৩০৬ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে নিউজিল্যান্ড। সেঞ্চুরি করেন টম ল্যাথাম (১০১) ও ডেভন কনওয়ে (১০০)। কেন উইলিয়ামসন ৪০ ও রাচিন রবীন্দ্র ৪৬ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন।

এই ম্যাচে দুই দল মিলে মোট ১৪৩৯ রান করে, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজ–নিউজিল্যান্ড টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বোচ্চ রান ছিল ২০১৩ সালে ডানেডিনে হওয়া টেস্টে ১৪০৮।

ম্যাচসেরা হয়েছেন ডেভন কনওয়ে। সিরিজ সেরা জ্যাকব ডাফি, যিনি পুরো সিরিজে নিয়েছেন ২৩ উইকেট। নিউজিল্যান্ডের হয়ে এক সিরিজে তার চেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন কেবল রিচার্ড হ্যাডলি (১৯৮৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৩) এবং ব্রুস টেলর (১৯৭২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৭)।

এমইউএম/