এই সরকারকে আমি একটা কথাই বলতে চাই—
শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি লাগেনি শুধু,গুলিটা লেগেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সর্বোচ্চ আদর্শের ওপর।
যে ছেলেমেয়েগুলো, যে তরুণরা রাজপথে নেমে শেখ হাসিনার মতো শক্ত এক শাসনকে সরাতে পেরেছে—
তারা কোনো অপরাধী ছিল না,তারা ছিল সাহসী, তারা ছিল স্বপ্নবান,তারা ছিল এই দেশের ভবিষ্যৎ।
যে রাজনীতিবিদরা বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারে নাই বেগম খালেদা জিয়ার। বাড়ি রক্ষা করতে পারে,যারা ক্ষমতার ভেতরে থেকে সব সুবিধা ভোগ করে—
তারা যখন কিছুই করতে পারেনি,যখন ৫৭ জন সেনা অফিসার মারা গেল,তখন এই দেশেরপথগুলো খুলে দিয়েছিল আমাদের তরুণরাই।
সেই তরুণদের রক্ষা করা ছিল আমাদের দায়িত্ব।প্রবীণ রাজনীতিক হিসেবে আমাদের কাজ ছিল তাদের হাত ধরে রাজনীতি শেখানো—
কীভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়,কীভাবে সাংস্কৃতিক বন্ধন তৈরি করতে হয়,কীভাবে রাষ্ট্রকে বদলাতে হয়,রক্ত নয় বরং যুক্তি দিয়ে।
কিন্তু আমরা সেটা করিনি।আমরা উল্টো তাদের হাত ছেড়ে দিয়েছি,আমরা তাদের গালি দিয়েছি।
তাদের ‘হাতের বয়সী’, ‘কোমরের বয়সী’, ‘বাচ্চা পোলাপাইন’ বলে অপমান করেছি।
এই ভয়, এই তাচ্ছিল্য, এই অবহেলাই আজ আমার ভাই ওসমান হাদির মাথায় গুলির পথ তৈরি করেছে।
২৪-এর পর আওয়ামী লীগকে ধরে নিয়ে গেল অন্য রাজনৈতিক দল, তাদের পক্ষে কথা বলল—
কেন?
আমার ওসমান কি শুধু আমার ভাই ছিল?
না।
ওসমান আমার সন্তান হয়ে উঠেছিল,একজন আদর্শবান ছেলে,যে দেশটাকে ভালোবাসত নিজের জীবনের চেয়েও বেশি।
আমি আর আমার ওসমানকে ফিরে পাবো না,সে আর কোনোদিন “আপা” বলে ডাকবে না।
কিন্তু একটা কথা পরিষ্কার করে বলে যেতে চাই—
ওসমান একা ছিল না,ওসমান ছিল একটি প্রজন্মের কণ্ঠ,আর যারা এই প্রজন্মকে ভয় দেখিয়েছে,যারা তাদের অপরাধী বানিয়েছে,যারা তাদের রক্ষা করেনি—তারাই আমার ভাইয়ের মাথার গুলির জন্য দায়ী।
আজ যদি আপনারা ভাবেন,একজন ওসমান চলে গেলে সব থেমে যাবে—
তাহলে আপনারা ভুল করছেন।
কারণ ওসমান মরেনি। ওসমান আজ হাজার তরুণের সাহসে বেঁচে আছে।
আর এই দেশ একদিন প্রশ্ন করবেই—
এই গুলির আদেশ কে দিয়েছিল?
অবি/










