ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ (বাসস) : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক মহলে শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এই মৃত্যুকে শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মীর প্রস্থান হিসেবে নয়, বরং গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আজ এক বিবৃতিতে মান্না বলেন, “শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন সাহসী, অকুতোভয় এবং দেশের প্রতি নিবেদিত একজন দেশপ্রেমিক। তিনি কখনোই ভয়ভীতি, হুমকি বা রাজনৈতিক চাপের মুখে পিছপা হননি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার বলিষ্ঠ কণ্ঠ বাংলাদেশের মানুষকে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তিনি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তার মৃত্যুতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো, তা সহজে পূরণ হবে না।”
মান্না আরও বলেন, হাদি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন—একটি দেশ যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, আইন শাসনের শাসন শক্তিশালী হবে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। তিনি এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য যে লড়াই শুরু করেছিলেন, সেটি দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে একত্রিত হয়ে চালিয়ে যেতে হবে।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি হাদির হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যদি হত্যাকারীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে থাকে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।”
শরিফ ওসমান হাদির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য তার আত্মত্যাগ সমগ্র সমাজে প্রেরণা জোগাবে বলে মান্না আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “হাদির লড়াই আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, সত্য ও ন্যায়ের জন্য লড়াই কখনো বন্ধ করা যায় না। তার অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের সকলের উপর বর্তাচ্ছে।”
মান্না তার বিবৃতিতে হাদির রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, “শরিফ ওসমান হাদির আত্মত্যাগ শুধু এক ব্যক্তির লড়াই নয়, এটি একটি বৃহত্তর আন্দোলনের প্রতীক। তার জীবন ও কাজ আমাদের অনুপ্রাণিত করবে আরও স্বচ্ছ, ন্যায়পরায়ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলার জন্য।”
হাদির মৃত্যু রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ড সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে ন্যায়বিচারের জন্য আরও দৃঢ় আন্দোলনের উদ্রেক করবে। জনগণ আশা করছে, রাষ্ট্র যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে।
শরিফ ওসমান হাদির জীবন ও কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো মানে কখনোই হার মানা নয়। তার লড়াই ও আত্মত্যাগ ভবিষ্যতের জন্য এক শক্তিশালী প্রেরণা হিসেবে সমাজে দীর্ঘদিন টিকে থাকবে।
অবি/










