ছোট পাতায় বড় পুষ্টির ভাণ্ডার ধনে পাতা

রান্নার শেষ মুহূর্তে সামান্য ধনে পাতা ছড়িয়ে দিলেই খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণে আসে আলাদা মাত্রা। অনেকের কাছেই ধনে পাতা শুধুই সাজ বা ফ্লেভার বাড়ানোর উপকরণ। অথচ এই ছোট সবুজ পাতার ভেতর লুকিয়ে আছে শরীরের জন্য উপকারী নানা পুষ্টিগুণ, যা অনেকেই অজানা রেখে দেন।

ধনে পাতায় রয়েছে ভিটামিন এ, সি ও কে। এগুলো চোখের দৃষ্টি ভালো রাখতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে এবং রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে সহায়ক। পাশাপাশি এতে থাকা ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম হাড় মজবুত করে এবং হৃদ্‌যন্ত্রের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

হজম শক্তিশালী করতেও ধনে পাতা বেশ কার্যকর। এটি পাকস্থলীর এনজাইমের কাজ বাড়িয়ে খাবার সহজে হজমে সাহায্য করে। পেট ফাঁপা, অম্বল কিংবা গ্যাসের মতো সমস্যায় নিয়মিত ধনে পাতা উপকার দিতে পারে।

শুধু স্বাদ নয়, ধনে পাতার আরেকটি বড় গুণ হলো শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দেওয়ার ক্ষমতা। এটি লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করে শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধনে পাতা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সহায়ক। একই সঙ্গে এটি খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর ধনে পাতা ত্বকের কোষের ক্ষয় কমায় এবং ত্বককে রাখে উজ্জ্বল। নিয়মিত খেলে ব্রণ ও ত্বকের প্রদাহ কমতে পারে। এতে থাকা পুষ্টি উপাদান চুলের গোড়া মজবুত করে চুল পড়া কমাতেও সাহায্য করে।

এছাড়া ধনে পাতার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়। মৌসুমি রোগ প্রতিরোধে এই পাতার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

ধনে পাতা খাওয়ার নানা উপায় রয়েছে। কাঁচা সালাদে, চাটনি বা ভর্তা হিসেবে, আবার রান্নার শেষে টপিং হিসেবেও এটি ব্যবহার করা যায়। তবে বেশি সময় রান্না করলে এর পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে, তাই হালকা ব্যবহার করাই উত্তম।

খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি ধনে পাতা একটি প্রাকৃতিক পুষ্টিভাণ্ডার। হজমশক্তি বাড়ানো থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার—সব ক্ষেত্রেই এর উপকারিতা অনস্বীকার্য। তাই শুধু স্বাদের জন্য নয়, সুস্থ থাকতে চাইলে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ধনে পাতা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

অবি/