বিশ্বের প্রাচীনতম ম্যারাথনে দৌড়ানোর অভিজ্ঞতা কেমন?

সকাল ৯টা ১০ মিনিটে দৌড় শুরু হওয়ার কথা। আবহাওয়া কিছুটা ঠান্ডা। তবে দৌড় শুরু করলে সমস্যা হবে না মনে হচ্ছিল। আমার হোটেল থেকে হপকিনটনের স্টার্ট লাইন পর্যন্ত যেতে গাড়িতে এমনিতে লাগে ২০ মিনিট। কিন্তু রেস ডেতে সড়ক বন্ধ থাকায় প্রায় এক ঘণ্টা পরও পৌঁছানো যাচ্ছিল না। গুগল ম্যাপ বারবার একই রুট দেখাচ্ছিল, যা বন্ধ ছিল। গাড়িতে আমরা চারজন ছিলাম। সবার মধ্যেই উদ্বেগ—সময়মতো স্টার্ট লাইনে পৌঁছানো যাবে তো?

একপর্যায়ে দূরে একটি রেস শাটল বাস দেখা গেল। বাসটির পিছু নিলাম। কিছু দূর যাওয়ার পর বড় জ্যামে আটকে গেল আমাদের বাস। অনেকে গাড়ি ছেড়ে দৌড়ে এগোতে শুরু করলেন। আমি ও মেক্সিকান একজন রানার গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে কাছাকাছি একটি পয়েন্টে পৌঁছালাম, যেখান থেকে শাটল বাসে ওঠা যায়। সেখানে প্রবেশের আগে কয়েক ধাপ নিরাপত্তা তল্লাশি পার হতে হলো। ২০১৩ সালের বোমা হামলার পর থেকে বোস্টন ম্যারাথনে নিরাপত্তা খুবই কঠোর। ব্যাগসহ সবকিছু বারবার পরীক্ষা করা হচ্ছে। টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল, সময় বাঁচাতে তা–ও বাদ দিলাম।

শেষ পর্যন্ত শাটলে চড়ে সেই পয়েন্টে পৌঁছানো গেল, যেখান থেকে হেঁটে স্টার্ট লাইনে যেতে হবে। তখন প্রায় পৌনে নয়টা বাজে। আরও প্রায় দুই কিলোমিটার হাঁটতে হলো। রাস্তাজুড়ে বিভিন্ন দেশের রানারের সারি। বিশ্বের প্রথম সারির অ্যাথলেটদের এখানে দেখা যায়। দীর্ঘ দুশ্চিন্তার পর পরিবেশ দেখে স্বস্তি লাগছিল।

গ্রুপ-৪-এ পৌঁছে দেখি, নানা দেশের রানার—মার্কিন, বেলারুশিয়ান, স্প্যানিশ, তানজানিয়ান। সবাই খুব স্বতঃস্ফূর্তভাবে কথা বলছিলেন। বাংলাদেশ সম্পর্কে কেউ জানেন, কেউ জানেন না। তবে সবার সুর এক—‘উই আর ওয়ান ওয়ার্ল্ড’। স্টার্টের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল, এ জায়গায় এসে দৌড়ানোটাই বড় অর্জন।

আয়োজকদের কাছে জেনেছি, এবার ১২৮টি দেশের ৩২ হাজার অ্যাথলেট প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। দৌড় শুরু হলো। রেস শুরু হওয়ার পর প্রথম ভাগ ছিল কিছুটা ঢালু। রাস্তার দুই পাশে দর্শকের ক্রমাগত চিৎকার, প্ল্যাকার্ড, পতাকা—এ পরিবেশ অন্য কোনো রেসে এভাবে পাইনি। শুরু থেকেই সমর্থন পাওয়া যাচ্ছিল। তবে নতুন জুতায় অনুশীলন না করায় কয়েক মাইল দৌড়ানোর পর পায়ে ফোসকা পড়ে ব্যথা শুরু হলো। দৌড়ানো কঠিন হয়ে উঠল, কিন্তু দর্শকের উৎসাহ, চিৎকার এবং সামগ্রিক পরিবেশ মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।