দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ১৯.৪ ওভারে ১৭৪/৬ (সাইফউদ্দিন ১৭*, মেহেদী ৬*; তানজিদ ৭, পারভেজ ৪৩, লিটন ৫৭, সাইফ ২২, হৃদয় ৬, সোহান ৫)
ফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী।
আয়ারল্যান্ড ২০ ওভারে ১৭০/৬ (ডেলানি ১০*; স্টার্লিং ২৯, টিম ৩৮, হ্যারি ১১, ক্যালিটজ ৭, ডকরেল ১৮, টাকার ৪১)
চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৩৯ রানে হারের পর দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জয়ের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। শেষ দিকে থ্রিলারে পরিণত হওয়া ম্যাচে বাংলাদেশ ২ বল হাতে রেখে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছে ৪ উইকেটে। এই জয়ে ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে স্বাগতিক দল।
১৭১ রানের লক্ষ্যে ১৮তম ওভারে নুরুল হাসান সোহানের আউটে ভীষণ চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। ১২ বলে প্রয়োজন পড়ে ১৬ রানের। ওই ওভারেই একটি ছক্কা ও চার মেরে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান সাইফউদ্দিন। শেষ ওভারে ৬ বলে সমীকরণ নিয়ে আনেন ৩ রানে। তার পর চতুর্থ বলে বাউন্ডারি মেরে জয় নিশ্চিত করেন মেহেদী হাসান। সাইফ ৭ বলে ২ চার ও ২ ছক্কার ক্যামিও ইনিংসে ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন। মেহেদী অপরাজিত থাকেন ৬ রানে।
বাংলাদেশকে জয়ের পথে তুলেছেন অধিনায়ক লিটন দাস। ৩৭ বলে ৫৭ রানের ঝড়ো ইনিংস উপহার দেন তিনি। ম্যাচসেরাও তিনি। তাছাড়া ওপেনার পারভেজ হোসেন খেলেন ২৮ বলে ৪৩ রানের ইনিংস। লিটন দুটি জুটি গড়ে জয়ের মঞ্চ গড়তে ভূমিকা রাখেন। শুরুতে পারভেজের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ৬০, তার পর সাইফকে নিয়ে যোগ করেন আরও ৫২ রান।
অবশ্য ১০.৪ ওভারে লিটন ৩৩ রানে ক্যাচ আউট হলে ম্যাচের দৃশ্যপট ভিন্ন হতে পারতো। ডেলানি ভারসাম্য হারিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ নিলেও সে সময় ট্রাউজারের পেছনে থাকা তোয়ালে সীমানা স্পর্শ করায় সেটা ছক্কা হয়ে যায়।
আয়ারল্যান্ডের হয়ে মার্ক অ্যাডায়ার ৩৬ রানে উইকেট নেন দুটি। ২৮ রানে দুটি নেন গ্যারেথ ডেলানি।
শুরুতে টস জিতে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৭০ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল আয়ারল্যান্ড।
হৃদয়ের পর বোল্ড সোহান
চাপের মুহূর্তে দলকে রক্ষা করতে পারেননি হৃদয়। বরং দলের ১৪৯ রানে রান নেওয়ার তাড়ায় রানআউট হয়ে ফিরেছেন তিনি। তাতে পড়ে বাংলাদেশের পঞ্চম উইকেট। হৃদয় আউট হন ৬ রানে। পরের ওভারে ৫ রানে অ্যাডায়ারের বলে বোল্ড হন নুরুল হাসান সোহানও।
লিটনের আউটের পর ফিরলেন সাইফও
পারভেজের সঙ্গে দুর্দান্ত জুটি ভাঙলেও বাংলাদেশকে জয়ের পথে টেনে নিচ্ছিলেন লিটন দাস। ৩৪ বলে তুলে নেন ১৬তম ফিফটি। তাছাড়া সাইফ হাসানকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৩১ বলে বলে যোগ করেন ৫২ রান। জয়ের কাছে থাকা অবস্থাতেই দলের ১৩৮ রানে এলবিডাব্লিউ হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাকে আউট করেন মার্ক অ্যাডায়ার। লিটনের ৩৭ বলে ৫৭ রানের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৩ টি ছয়। পরের ওভারে ডেলানির ঘূর্ণিতে ক্যাচ আউট হন সাইফ হাসানও। তার ১৭ বলে ২২ রানের ইনিংসে ছিল ১টি চার ও ১টি ছয়। বাংলাদেশ চতুর্থ উইকেট হারায় ১৪০ রানে।
৬০ রানের জুটি ভাঙলো পারভেজের আউটে
২৬ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর বাংলাদেশকে টেনে নিচ্ছিলেন পারভেজ হোসেন ও লিটন দাস। ৪৩ বলে ৬০ রান যোগ করেন তারা। দলীয় ৮৬ রানে এই জুটি ভেঙেছেন গ্যারেথ ডেলানি। রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ২৮ বলে ৪৩ রানে ক্যাচ আউট হন পারভেজ। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ২টি ছয়।
পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের ৬৬ রান
২৬ রানে অহেতুক রানআউটে পড়েছে বাংলাদেশের প্রথম উইকেট। তার পর আইরিশ বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলেছেন অধিনায়ক লিটন দাস ও পারভেজ হোসেন। পাওয়ার প্লেতে তাদের ব্যাটে ১ উইকেটে যোগ হয়েছে ৬৬ রান। লিটন এই সময় মাত্র ১১ বলে ১টি চার ও ১ ছক্কায় করেন ১৮ রান। পারভেজ ১৫ বলে ৫টি চার ও ১ ছক্কায় করেন ৩১।
তানজিদের রানআউটে ভাঙলো উদ্বোধনী জুটি
১৭১ রানের লক্ষ্যে দারুণ সূচনা করেছিলেন দুই ওপেনার পারভেজ হোসেন ও তানজিদ হাসান। পারভেজই ছিলেন বেশি আক্রমণাত্মক। তানজিদ ছিলেন খোলসবন্দি। তৃতীয় ওভারে অযথা সিঙ্গেল নিতে গিয়ে রানআউট হন ওপেনার তানজিদ হাসান। তিনি ১০ বলে ফেরেন ৭ রানে। তাতে ছিল একটি চার। বাংলাদেশ শুরুর উইকেট হারায় ২৬ রানে।
বাংলাদেশকে ১৭১ রানের লক্ষ্য দিয়েছে আয়ারল্যান্ড
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও দুর্দান্ত ব্যাটিং উপহার দিয়েছে আয়ারল্যান্ড। টস জিতে ৬ উইকেটে সংগ্রহ করেছে ১৭০ রান।
পাওয়ার প্লে শেষে আইরিশদের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ৭৫। যার মূলে ছিলেন টিম টেক্টর ও পল স্টার্লিং। ওপেনিং জুটিতেই আসে ৫৭ রান। ফেরার আগে স্টার্লিং ১৪ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় করেন ২৯।
তার পর ধীরে ধীরে বোলিংয়ে পরিবর্তন এনে ম্যাচের দৃশ্যপটে বদল আনতে পেরেছিল বাংলাদেশ। গতি কমিয়ে ব্যাক অফ লেংথে বোলিং শুরু করেন স্বাগতিক পেসাররা। অপরদিকে স্পিনাররাও চেপে ধরেন আইরিশদের। মেহেদীর এক ওভারে ফেরেন টিম টেক্টর (৩৮) ও হ্যারি টেক্টর (১১)। তাতে শুরুতে বড় স্কোরের সম্ভাবনা মিলিয়ে যেতে থাকে আয়ারল্যান্ডের। ১১তম ওভারে মেহেদী চতুর্থ উইকেটও এনে দেন। তার পর অবশ্য পঞ্চম উইকেটে লরকান টাকার ও জর্জ ডকরেলের ৫৬ রানের জুটি ইনিংসটাকে ভালো অবস্থানে নিয়ে গেছে। ডকরেলকে (১৮) ফিরিয়ে এই জুটি ভেঙেছিলেন সাইফউদ্দিন। শেষ ওভারে টাকারকে প্রত্যাশামতো রান নিতে দেননি মোস্তাফিজুর। শেষ বলে রানআউট হয়েছেন তিনি। টাকারের ৩২ বলে ৪১ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসে ছিল ৪টি চার। ডকরেলের মতো কার্যকরী ইনিংসে ভূমিকা রাখেন ডেলানি। ৮ বলে ১ ছক্কায় ১০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
শেষ দিকে বাংলাদেশের বোলাররা ম্যাচে ফেরায় শেষ ৮৪ বলে আসে ৯৫ রান। যার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা মেহেদীর। ২৫ রানে নেন তিন উইকেট। ৩ ওভারে ১৭ রানে একটি নেন তানজিম হাসান। ৪ ওভারে ৩৯ রানে একটি নেন সাইফউদ্দিন।










