রংপুর কারমাইকেল কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত। শহরের নজরুল চত্বর এলাকায় মেসে থাকেন। সেখানে বাসা ভাড়া ও খাবার বাবদ বকেয়া পড়েছিল আট হাজার টাকা। দুই মাস ধরে তা পরিশোধ করতে পারছিলেন না। দুই দিন আগে মেস মালিক শরীফ বাবু তাঁকে প্রস্তাব দেন খাদ্য বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিলে মেসের বকেয়া টাকা দিতে হবে না।
ওই প্রস্তাবে রাজি হয়ে আজ শনিবার পরীক্ষায় অংশ নিতে আসেন মিফতাহুল। কিন্তু তাঁর উদ্দেশ্য সফল হয়নি। তিনি ধরা পড়েছেন কক্ষ পরিদর্শকের কাছে।
এ ঘটনা আজ সকালে দিনাজপুর কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্রে (টিটিসি)। খাদ্য বিভাগের ‘সহকারী খাদ্য পরিদর্শক’ পদে নিয়োগ পরীক্ষা ছিল। মিফতাহুলের কক্ষ ছিল ভবনের নিচতলায় অটোমেটিক ট্রেড কক্ষে। কক্ষ পরিদর্শক উত্তরপত্রে স্বাক্ষর করতে গিয়ে ছবির মিল না পাওয়ায় সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সব কথা স্বীকার করেন মিফতাহুল। পরে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এসএম হাবিবুল হাসান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জানে আলম। মিফতাহুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মিফতাহুল রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ছোটরসুলপুর গ্রামের রেজাউল করীমের ছেলে। তিনি দিনাজপুরের ওমর ফারুক নামের একজনের হয়ে (প্রক্সি) পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছিলেন।
এদিকে ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা দিতে এসে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন শিরিন আক্তার নামের এক চাকরিপ্রত্যাশী। তিনি দিনাজপুর সদর উপজেলার পরাজপুর ফাসিলাডাঙ্গা হাইস্কুল কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর বাড়ি পঞ্চগড় জেলায়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এসএম হাবিবুল হাসান বলেন, ‘কিছুদিন আগে ডিভাইস নিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘটনায় একটি চক্রের তিন সদস্যকে আমরা আটক করেছিলাম। এ ধরনের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আরও একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছি। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কাজ করছে। আজকের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্র সচিবকে মামলা করার নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে।










