‘বৈরী নীতি’ ত্যাগ করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক সম্ভব: কিম জং উন

উত্তর কোরিয়ার নেতা  কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা কার্যত নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, প্রয়োজন হলে তার বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়াকে “সম্পূর্ণ ধ্বংস” করতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ওয়াশিংটন পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে “বৈরী নীতি” পরিত্যাগ করছে কি না-এমন বার্তাও দিয়েছেন তিনি। খবর আলজাজিরার।

বুধবার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে কিম বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি আমাদের দেশের সংবিধানে নির্ধারিত বর্তমান মর্যাদা সম্মান করে এবং বৈরী নীতি প্রত্যাহার করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়তে কোনো বাধা নেই।”

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা  কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) বৃহস্পতিবার জানায়, কিম তার পারমাণবিক-সজ্জিত সামরিক শক্তি আরও জোরদার করতে নতুন অস্ত্রব্যবস্থা উন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে পানির নিচ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র-যেমন আর্টিলারি ও স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র।

কিম বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচির দ্রুত অগ্রগতি দেশটির পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে অবস্থান “স্থায়ীভাবে সুদৃঢ়” করেছে। তার ভাষায়, পারমাণবিক অস্ত্র দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থের “গ্যারান্টি ও সুরক্ষা-ব্যবস্থা”।

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা  ইয়নহাপ নিউজ এজেন্সি জানায়, পাঁচ বছর পরপর অনুষ্ঠিত ওয়ার্কার্স পার্টির কংগ্রেসে সারা দেশ থেকে প্রায় ৫ হাজার প্রতিনিধি অংশ নেন। বুধবার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কিম ইল সুং স্কয়ারে সামরিক কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, আলোকসজ্জায় সজ্জিত স্কয়ারে সৈন্যরা সুশৃঙ্খলভাবে মার্চ করছেন। মঞ্চে কিমের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার কন্যা কিম জু অ্যে। কুচকাওয়াজে বিশেষ বাহিনীর পোশাক পরিহিত সেনাদের পাশাপাশি আকাশে যুদ্ধবিমানের উড্ডয়নও দেখা যায়। তবে সেখানে কী ধরনের ভারী সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

কিমের কন্যার প্রকাশ্য উপস্থিতি তাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে কি না—এমন জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

-বেলাল