পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম-প্রধান দেশ সেনেগালে সমকামী সম্পর্কের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন আরও কঠোর করার প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী উসমানে সোনকো। নতুন বিল অনুযায়ী, সমলিঙ্গের সম্পর্কের জন্য সর্বোচ্চ কারাদণ্ড ১০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। খবর বিবিসির।
গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিলটি পার্লামেন্টে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেনেগালের আইনে সমকামী সম্পর্কের জন্য এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে সোনকো বলেন, নতুন প্রস্তাবে “প্রকৃতিবিরোধী কাজ” হিসেবে বর্ণিত সমলিঙ্গের যৌনসম্পর্কের জন্য পাঁচ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হবে। কোনো নাবালকের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটলে সর্বোচ্চ সাজা প্রযোজ্য হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, সমলিঙ্গের সম্পর্ক প্রচার বা সমর্থনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিন থেকে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া সমকামিতার অভিযোগ আনলেও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। নতুন আইনে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ এক কোটি সিএফএ ফ্রাঁ (প্রায় ১৮ হাজার মার্কিন ডলার) জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
সেনেগালে এলজিবিটি অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। রক্ষণশীল সমাজে অনেক গোষ্ঠী সমকামিতার পক্ষে আন্দোলনকে “বিদেশি হস্তক্ষেপ” হিসেবে তুলে ধরে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্মীয় সংগঠনগুলো কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভও করেছে।
চলতি মাসের শুরুতে সমকামিতা বিরোধী আইনের আওতায় পুলিশ ১২ জনকে আটক করে, যাদের মধ্যে দুজন পরিচিত জনব্যক্তিত্ব ও একজন সাংবাদিকও রয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এ মাসে মোট প্রায় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সাম্প্রতিক ধরপাকড়কে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সমতা ও বৈষম্যবিরোধী অধিকারের লঙ্ঘন বলে সমালোচনা করেছে।
আফ্রিকার আরও কয়েকটি দেশ সম্প্রতি এলজিবিটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইন পাস করেছে। ২০২৩ সালে উগান্ডা-তে বিশ্বের অন্যতম কঠোর সমকামিতা বিরোধী আইন পাস হয়, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু সমলিঙ্গের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালেমালি ওবুরকিনা ফাসো -তেও সমকামিতা অপরাধ হিসেবে আইন প্রণয়ন করা হয়।
এ বিলটি নিয়ে পার্লামেন্টে ভোটের তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি। তবে পার্লামেন্টে সোনকোর দল পাস্তেফের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
-বেলাল










