গ্রিনল্যান্ডের পর এবার ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জে নজর ট্রাম্পের

গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন অঞ্চল হিসেবে দাবি করার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে এই দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনাকে ‘চরম বোকামি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ন্যাটো মিত্র যুক্তরাজ্য কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপ মরিশাসের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তার মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি।

তিনি গ্রিনল্যান্ডের মতোই এখানেও একই যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্ত দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ, যার সুযোগ নিতে পারে চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো।

ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৬৮ সালে মরিশাসের স্বাধীনতার শর্ত হিসেবে চাগোস দ্বীপপুঞ্জকে আলাদা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক ঘাঁটির জন্য ইজারা দেয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত বছরের মে মাসে যুক্তরাজ্য ও মরিশাসের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সই হয়। চুক্তির প্রধান শর্তগুলো হলো: চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ আগামী ৯৯ বছর (প্রয়োজনে আরও ৪০ বছর) যুক্তরাজ্যের হাতেই থাকবে। বিনিময়ে মরিশাসকে বছরে ১০ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড ভাড়া দেবে যুক্তরাজ্য।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই চুক্তিটি স্বাক্ষরের সময় ট্রাম্প প্রশাসন একে স্বাগত জানিয়েছিল। এমনকি ওভাল অফিসে এক বৈঠকে ট্রাম্প নিজেও ৯৯ বছরের লিজ চুক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। তবে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে হঠাৎ অবস্থান বদলে ব্রিটিশ সরকারের কঠোর সমালোচনা করছেন তিনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জন্য চরম অস্বস্তিকর। কারণ মাত্র একদিন আগেই স্টারমার ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘দৃঢ় ও ইতিবাচক’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। ট্রাম্পের এমন আকস্মিক ও আক্রমণাত্মক মন্তব্যকে কূটনৈতিকভাবে অপমানজনক হিসেবে দেখছে অনেক পক্ষ। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর যুক্তরাজ্য ও মরিশাস সরকার তাদের চুক্তির বিষয়ে নতুন কোনো অবস্থান নেয় কি না।

-এম. এইচ. মামুন