ইতিহাসগড়া এক সেঞ্চুরিতে ম্যাচ কাঁপালেন ব্রুক, হার মানল পাকিস্তান

লড়াকু পুঁজি নিয়ে ইংল্যান্ডকে কঠিন চ্যালেঞ্জই জানিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে গেলেন হ্যারি ব্রুক। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ইতিহাসগড়া এক সেঞ্চুরি করে দলকে জয় ও সেমি-ফাইনালের টিকেট এনে দিলেন ইংলিশ অধিনায়ক।

পাল্লেকেলেতে মঙ্গলবার সন্ধ্যার ম্যাচে পাকিস্তানকে ২ উইকেটে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। আগে ব্যাট করে ১৬৪ রানের সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। জবাবে শেষ দিকে কিছুটা জমে উঠলেও ৫ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে যায় ব্রুকের দল।

দলকে জেতানো দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ৫১ বলে ১০০ রানের ইনিংস খেলেছেন ব্রুক। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো অধিনায়কের এটিই প্রথম সেঞ্চুরি। এত দিন কোনো অধিনায়কের সর্বোচ্চ ছিল ৯৮ রান, ক্রিস গেইলের।

তিন অঙ্ক ছুঁতে ৫০ বল খেলেছেন ব্রুক। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি এটি। ২০১৬ সালের আসরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন গেইল। এছাড়া ২০০৭ সালে ৫০ বলেও সেঞ্চুরি করেছিলেন ইউনিভার্স বস।

সুপার এইটে দুই ম্যাচে একটি পরিত্যক্ত ও একটি হেরে বিদায়ের খুব কাছে এখন পাকিস্তান। শেষ ম্যাচে শুধু জিতলেই হবে না, তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যদের দিকেও। বিপরীতে দুই ম্যাচের দুটিই জিতে প্রথম দল হিসেবে সেমি-ফাইনালে উঠে গেল ইংল্যান্ড।

এই জয়ের সৌজন্যে টানা পাঁচ বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড। যা এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

এই সেঞ্চুরির সৌজন্যে ইংল্যান্ডের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে তিন সংস্করণেই তিন অঙ্কের স্বাদ পেলেন ব্রুক। তার আগে এই কৃতিত্ব ছিল শুধু জস বাটলার ও ডেভিড মালানের। বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করা ইংল্যান্ডের তৃতীয় ব্যাটার তিনি। আগের দুজন- বাটলার ও অ্যালেক্স হেলস।

এ নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪ ম্যাচের সবকটি জিতল ইংল্যান্ড। সব মিলিয়ে এই সংস্করণে সবশেষ ৬ ম্যাচেই পাকিস্তানকে হারাল তারা।

অথচ রান তাড়ায় ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল বেশ বাজে। পাওয়ার প্লেতে ড্রেসিং রুমে ফিরে যান ফিল সল্ট, জস বাটলার ও জ্যাকব বেথেল। মাত্র ৩৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপেই পড়ে যায় ইংলিশরা।

সেখান থেকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথমবার তিন নম্বরে নেমে নিজের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নেন ব্রুক। পাল্টা আক্রমণে মাত্র ২৭ বলে ফিফটি করেন ২৭ বছর বয়সী ব্যাটার। একই ছন্দে এগিয়ে ৫০ বলে করে ফেলেন সেঞ্চুরি।

তিন অঙ্ক ছুঁয়ে অবশ্য টিকতে পারেননি। পরের বলেই তাকে বোল্ড করেন শাহিন শাহ আফ্রিদ। তবে ওই সময়ের মধ্যে জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। তাই মোহাম্মদ নাওয়াজ ১৯তম ওভারে ২ উইকেট নিলেও লাভ হয়নি পাকিস্তানের।

ব্রুকের সেঞ্চুরি ছাড়া ইংল্যান্ডের হয়ে দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেন শুধু দুই ব্যাটার- উইল জ্যাকস (২৩ বলে ২৮) ও স্যাম কারান (১৫ বলে ১৬)। আর বাকি কেউই দশ রানও করতে পারেননি।

পাকিস্তানের পক্ষে ৩০ রানে ৪ উইকেট নেন শাহিন আফ্রিদি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৪০ ম্যাচ পর ৪ উইকেটের দেখা পেলেন তিনি। আলোচিত স্পিনার উসমান তারিক ৩১ রানে নেন ২ উইকেট।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের পক্ষে বড় রানের করেন শুধু সাহিবজাদা ফারহান। ১৬তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ৪৫ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলেন মারকুটে এই ওপেনার।

চলতি বিশ্বকাপে ফারহানের এটি দ্বিতীয় ফিফটি। এর সঙ্গে আছে একটি সেঞ্চুরি। ৫ ইনিংসে ২৮৩ রান নিয়ে এখন পর্যন্ত তিনিই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

এছাড়া ফাখার জামান ১৬ বলে ২৫, বাবর আজম ২৪ বলে ২৫ ও শাদাব খান শেষ দিকে ১১ বলে ২৩ রান করলে লড়াইয়ের পুঁজি পায় পাকিস্তান। যা শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হয়নি।

ইংল্যান্ডের হয়ে মাত্র ২৪ রানে ৩ উইকেট নেন লিয়াম ডসন। এছাড়া জফ্রা আর্চার ও জেমি ওভারটন নেন ২টি করে শিকার।

-সাইমুন