পাকিস্তানে পুলিশের গাড়িতে হামলা, শীর্ষ কর্মকর্তাসহ নিহত ৭

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাট জেলায় পুলিশের একটি টহল গাড়িতে বন্দুকধারীদের অতর্কিত হামলায় এক শীর্ষ কর্মকর্তাসহ অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জিওনিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে লচি এলাকার ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) আসাদ মাহমুদ খান এবং ৫ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এছাড়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত ১ জন বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন।

পুলিশ জানানিয়েছে, সন্ত্রাসীরা হঠাৎ করে পুলিশ মোবাইল ভ্যান লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তিন পুলিশ সদস্য নিহত হন। তাদের মধ্যে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট (ডিএসপি) আসাদ মেহমুদও রয়েছেন। হামলার সময় ভ্যানের পাশ দিয়ে যাওয়া দুই বেসামরিক ব্যক্তি আহত হন।

পরবর্তীতে আহত তিন পুলিশ সদস্য ও এক বেসামরিক ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বর্তমানে আরও তিন পুলিশ সদস্য ও একজন বেসামরিক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার পর সন্ত্রাসীরা পুলিশ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ জঙ্গিগোষ্ঠীর হামলায় ডিএসপি আসাদ মেহমুদ ও অন্যান্য শহীদ পুলিশ সদস্যদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শহীদরা জাতির ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং তাদের এই ত্যাগ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা বেড়েছে। গত সোমবার খাইবার পাখতুনখোয়ার কারাক জেলায় আহত নিরাপত্তা সদস্যদের বহনকারী একটি অ্যাম্বুলেন্সে হামলায় তিনজন ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারি সদস্য নিহত হন। এছাড়া খাইবার পাখতুনখোয়ার ডেরা ইসমাইল খান ও বেলুচিস্তানের পিশিন জেলায় পৃথক অভিযানে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে।

২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা পুনর্দখলের পর থেকে পাকিস্তানে সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান সরকার একাধিকবার কাবুলকে তাদের ভূখণ্ড থেকে জঙ্গিগোষ্ঠীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানালেও উল্লেখযোগ্য সাড়া মেলেনি।

সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার জবাবে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে নিরাপত্তা সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এতে বহু জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে এ নিয়ে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

-মামুন