ভোটব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নতুন রাজনৈতিক ঝড় তুললেন ট্রাম্প

আসন্ন নভেম্বরের  নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও প্রশাসনিক তৎপরতা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ভোট কারচুপির অভিযোগ তোলার প্রেক্ষাপটে সমালোচকদের আশঙ্কা, এবারের নির্বাচন নিয়েও আগাম সংশয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। খবর আলজাজিরার।

এটি ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদে প্রথম বড় জাতীয় নির্বাচন। এই ভোটে নির্ধারিত হবে কংগ্রেসের দুই কক্ষ-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট-এ রিপাবলিকান পার্টি তাদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না। ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণী কর্মসূচির ভবিষ্যৎ।

নির্বাচন ব্যবস্থাকে কেন্দ্রের অধীনে আনার প্রস্তাব

ফেব্রুয়ারির শুরুতে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া জাতীয় পর্যায়ে আনা উচিত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী ফেডারেল নির্বাচনের সময়, স্থান ও পদ্ধতি নির্ধারণের ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে ন্যস্ত। প্রেসিডেন্টের সরাসরি প্রশাসনিক ভূমিকা সীমিত। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভোটাধিকার সংগঠন নারী ভোটার লীগ ট্রাম্পের এ মন্তব্যকে নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও অখণ্ডতার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির মতে, ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ বারবার আদালত ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে খারিজ হয়েছে।

ভোট জালিয়াতি নিয়ে তথ্য

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আসছেন। তবে বিভিন্ন গবেষণা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতির হার অত্যন্ত কম। রক্ষণশীল গবেষণা প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের তথ্যভান্ডারেও ১৯৮২ সাল থেকে জালিয়াতির ঘটনা খুবই সীমিত। একইভাবে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে জাল ভোটের হার শতাংশের এক দশ-হাজার ভাগেরও কম।

বিচার বিভাগের তৎপরতা

ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগিত জালিয়াতির তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগকে সক্রিয় করেছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের কাছে পূর্ণ ভোটার তালিকা চাওয়া হয়েছে এবং অস্বীকৃতির ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জর্জিয়ার ফুলটন কাউন্টির একটি নির্বাচন কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে নথি জব্দের ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক টালসি গ্যাবার্ড। এ নিয়ে কংগ্রেসে প্রশ্ন ওঠে। ভার্জিনিয়ার সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার ঘটনাটিকে “নজিরবিহীন ও উদ্বেগজনক” বলে মন্তব্য করেন।

ভোটার পরিচয়পত্র আইন নিয়ে বিতর্ক

ট্রাম্প সমর্থিত এক প্রস্তাবে ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র এবং ভোট প্রদানের সময় ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এতে নিম্নআয়ের বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রবিহীন নাগরিকদের ভোটাধিকার ব্যাহত হতে পারে। প্রস্তাবটি প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও সিনেটে তা অনিশ্চিত। ইতোমধ্যে প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষরিত অনুরূপ নির্বাহী আদেশের কয়েকটি ধারা ফেডারেল আদালত স্থগিত করেছেন।

গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আগাম সন্দেহের পরিবেশ তৈরি এবং ফেডারেল ক্ষমতার সীমা প্রসারিত করার প্রচেষ্টা-এই দুই কৌশল সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসন এগোচ্ছে। ফলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন কেবল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে না; এটি যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বাধীনতারও এক বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

-বেলাল