যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধবিরতির পর গাজা যুদ্ধ থামলেও হামাসের লড়াই থেমে যায়নি। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে টিকে থাকার লড়াইয়ের পাশাপাশি এখন তারা গাজায় নিজেদের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় মনোযোগ দিচ্ছে, জানিয়েছে বিবিসি।
গত যুদ্ধের সময় হামাসের শৃঙ্খলাবদ্ধ সামরিক ইউনিটগুলো ভেঙে গেরিলা বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল। নেতৃত্বের বড় অংশ নিহত, নগর ও অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত, অর্থনীতি ধ্বংস এবং হাজার হাজার সাধারণ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। হামাসের নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সংঘাতে ৭২ হাজারের বেশি গাজাবাসী নিহত হয়েছেন।
চার মাস পর, স্থানীয়রা বলছেন হামাস নিরাপত্তা, কর রাজস্ব এবং সরকারি সেবায় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থা পুনরায় রাস্তায় কার্যক্রম চালাচ্ছে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং পরিচয়পত্র ও স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক দায়িত্বে ফিরে এসেছে।
বাজার ও দোকানগুলোতে কর ও ফি আদায়ে কঠোর নজরদারি ফিরেছে। এক দোকানি জানান, পৌরসভা দৈনিক টহল দেয় এবং নির্দিষ্ট ফি দিতে না পারলে পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়। গাজা সিটিতে কিছু নিত্যপণ্য আমদানির অনুমতি থাকলেও কর ও নগদ লেনদেনে হামাসের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি কার্যকর।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, “গাজা এখন জরুরি অবস্থায় রয়েছে। কিছু ব্যবসায়ী ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে এবং অতিরিক্ত মুনাফা করতে চায়। যারা সহযোগিতা করে না তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক সংস্থা কঠোর হতে বাধ্য।”
সংঘাতের পর এই পুনঃস্থাপন প্রক্রিয়া হামাসের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ও ক্ষমতার সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
-বেলাল










